ভার্চুয়াল ডেস্কটপ কি | ডেস্কটপ বা ল্যাপটপ ব্যবহারের ১৪টি মাস্টার টিপস

কম্পিউটার আজকাল ঘরে ঘরে অবস্থান করে নিয়েছে। এখন সব ক্ষেত্রকেই কম্পিউটারাইজ করা হয়েছে। তাই বলা যেতেই পারে আমরা সবাই কোন না কোন উপায়ে কম্পিউটারের উপর নির্ভরশীল। আমাদের সবারই কম বেশি কম্পিউটার সম্পর্কে ধারণা আছে। আসলে কম্পিউটার সম্পর্কে ধারণা না থাকলে তা নিয়ে কাজ করে সুবিধা করা সম্ভব না। যেহেতু আমরা সবাই এখন কম্পিউটার কেন্দ্রিক জীবন গড়ে তুলেছি আর কম্পিউটার সম্পর্কে যে যত ধারণা ভালো রাখবে সে তত এগিয়ে থাকবে সেহেতু আমাদের এই কম্পিউটার সম্পর্কে বিশেষ জ্ঞান থাকা উচিৎ। আজ আমি আপনাদের এমন কিছু কম্পিউটার টিপস শিখাবো যা আপনার কম্পিউটার ব্যবহার করাকে আরো সহজ আরো আকর্ষণীয় করে তুলবে। তাহলে চলুন জেনে নিই এই বিশেষ কম্পিউটার ট্রিকস গুলো।

ভার্চুয়াল ডেস্কটপ

উইন্ডোজ ১০ ভার্চুয়াল ডেস্কটপ

ভার্চুয়াল ডেস্কটপ ফিচারের মাধ্যমে আপনি একটা কম্পিউটারকেই ইচ্ছেমত ৫/১০টা ভার্চুয়াল কম্পিউটার বানিয়ে নিতে পারেন। এতে প্রত্যেকটা ভার্চুয়াল ডেস্কটপই একটা সতন্ত্র কম্পিউটারের মত কাজ করবে। মনে করুন আপনি এখন মিডিয়া প্লেয়ার ব্যবহার করে গান শুনছেন। একই সময়ে যদি মুভিও দেখতে চান তাহলে আমরা সাধারণত আরেকটা প্লেয়ার ব্যবহার করি। কিন্তু ভার্চুয়াল ডেস্কটপ ফিচারের মাধ্যমে আপনি একই পিসির ভেতর আলাদা আলাদা ডেস্কটপ তৈরি করে একই সফটওয়্যার দিয়ে ভিন্ন ভিন্ন ডেস্কটপে ভিন্ন ভিন্ন কাজ করতে পারবেন। ভার্চুয়াল ডেস্কটপ তৈরি করতে উপরের ইমেজে চিহ্নিত ১ নং জায়গায় ক্লিক করে ভার্চুয়াল ডেস্কটপ মোডে প্রবেশ করুন। এরপর ২নং চিহ্নিত স্থানে যতবার ক্লিক করবেন ততটি ভার্চুয়াল ডেস্কটিপ তৈরি হয়ে যাবে। আর ১নং স্থানে ক্লিক করে যে কোন ভার্চুয়াল ডেস্কটপে যেতে পারবেন। কিবোর্ড শর্টকাটে ভার্চুয়াল ডেস্কটপ তৈরি করতে ctrl + win + D চাপুন। এক ভার্চুয়াল ডেস্কটপ থেকে অন্য ভার্চুয়াল ডেস্কটপে যেতে ctrl + win + Right arrow বা ctrl + win + Left arrow কি চাপুন। ভার্চুয়াল ডেস্কটপ বন্ধ করতেঃ যে ভার্চুয়াল ডেস্কটপ বন্ধ করতে চান সেটি ওপেন থাকা অবস্থায় কিবোর্ড থেকে ctrl + win + F4 [ল্যাপটপে ctrl + Fn + win + F4] চাপুন। ভার্চুয়াল ডেস্কটপ ফিচারটি শুধুমাত্র উইন্ডোজ ১০ এ কাজ করে।

কুইক প্রোগ্রাম ইন্সটল থেকে বিরত থাকুন

উইন্ডোজ ১০ শর্টকাট

আমরা সাধারণত প্রোগ্রাম / সফটওয়্যার ইন্সটলের ক্ষেত্রে খুব তাড়াহুড়া করে চোখ বন্ধ করে নেক্সট নেক্সট করে যাই। এটা ভুলেও করবেন না। এতে অনেক অপ্রয়োজনীয় প্রোগ্রাম ইন্সটল হয়ে যায় আপনার ডিভাইসে। এগুলোর বেশির ভাগই নিম্ন মানের খারাপ প্রোগ্রাম। তাই আমি বলবো সব কিছুতে সর্টকাট করার কুইক ইন্সটল অপশন থেকে বিরত থাকুন। এডভান্স অপশন বা কাস্টম অপশন ব্যবহার করুন। যদি অপ্রয়োজনীয় কিছু থাকে তাহলে সেটার টিক চিহ্ন উঠিয়ে দিয়ে নেক্সট করুন।

দ্রুত ফাইল, ফোল্ডার, ট্যাব ব্যবহার করা

multi menu

কাজের চাপে অনেক গুলো ফাইল, ফোল্ডার বা ট্যাব খুলে রেখেছেন তাইতো? সমস্যা হলো এতো ফাইল ফোল্ডার এক সাথে দেখে খুঁজে বের করা বেশ কষ্টদায়ক। এই সমস্যা সমাধানে মাল্টি টাস্ক উইন্ডো ব্যবহার করতে পারেন। আপনি যত গুলো ফাইল, ফোল্ডার, ট্যাব ,মেন্যু খুলবেন তা সব গুলোকে এক সাথে দেখাবে। আর এটা দেখতেও বেশ সুন্দর লাগে। অনেক গুলো ফাইল, ফোল্ডার, ট্যাব ,মেন্যু খুলার পর windows (key) + Tab একসাথে চাপুন। তাহলেই দেখতে পাবেন সব গুলো উইন্ডোকে একই সময়ে।

টেক্সট সিলেকশন অপশন

অফিস ওয়ার্ড কিংবা অফিস ডক সফটওয়্যারে আমরা সবাই কাজ করি কম বেশি। নিশ্চয় খেয়াল করেছেন যে আমরা যখন লিখা গুলোকে সিলেক্ট করতে চাই তখন মাউসের লেফট বাটনে ক্লিক করে ড্রাগ করে সিলেক্ট করি। আপনি এক বার ক্লিক করে সিলেক্ট করতে থাকলে বুঝতে পারবেন সিলেকশন গুলো অক্ষর হিসেবে সিলেক্ট হচ্ছে। আবার আপনি যদি মাউসের লেফট বাটন দুইবার ক্লিক করে সিলেকশন করা শুরু করেন তাহলে দেখবেন যে সিলেকশন গুলো ওয়ার্ড হিসেবে সিলেক্ট হচ্ছে। আর যদি মাউসের লেফট বাটন তিন বার ক্লিক করে সিলেকশন করা শুরু করেন তাহলে দেখবেন প্রতিবার মাউস টানার সময় প্যারাগ্রাফ আকারে সিলেক্ট হচ্ছে।

ক্রোম ইন সাইট সার্চ

quick search

যদি আপনি কোন একটি নির্দিষ্ট সাইটের কোন নির্দিষ্ট পেজ/ গ্রুপ/ ব্যক্তি/ বিষয় খুজতে চান তাহলে এই অপশনটি আপনাকে বেশ সহায়তা করবে আপনাকে শত শত সার্চ ফলের লিস্ট থেকে। এই জন্য ক্রোম ব্রাউজারে গিয়ে সার্চ বারে আপনার কাঙ্ক্ষিত নির্দিষ্ট সাইটের অ্যাড্রেসটি লিখুন তারপর একটা “। ” এই চিহ্ন দিয়ে পেজ/ গ্রুপ/ ব্যক্তি/ বিষয়ের নাম লিখুন তাহলে সরাসরি পেয়ে যাবেন। যেমন ধরুন আমি ফেসবুকে “banglacourse” পেজ টি চাচ্ছি। এই ক্ষেত্রে আমাকে facebook.com লিখার সময় যখন ফেসবুক লিখাটি সাজেস্ট করবে ব্রাউজার তখন কিবোর্ড এর right arrow (→) key চেপে স্পেস key চাপলেই “।” এই চিহ্ন স্বয়ংক্রিয় ভাবে বসে যাবে। তারপর banglacourse লিখে সার্চ দিলেই সরা সরাসরি পেজ পেয়ে যাবো।

ব্রাউজারে ক্লোজ ট্যাব ফিরিয়ে নিয়ে আসা

আমরা যারা ক্রোম ব্রাউজার চালাই শুধু তাদের জন্যই নয় বরং সব ব্রাউজারেই এটা শর্টকাট যা সবার জানা থাকলে উপকার হবে নিশ্চিত। আমরা মাঝে মাঝে কাজ করতে গিয়ে ভুলে কিংবা আজের সুবিধার্থে ব্রাউজার থেকে ট্যাব গুলো কেটে দিই। এমন অবস্থায় যদি আবার মনে হয় যে কেটে দেয়া ট্যাবটির ওয়েবসাইটে আবার যাওয়া দরকার তাহলে আপনাকে আবার নতুন ট্যাব খুলে অ্যাড্রেস লিখে যেতে হবেনা। আপনি জাস্ট control+ shift + t চাপ দিলেই আগের ট্যাব ফিরে আসবে। এই ভাবে যত বার  চাপবেন কেটে যাওয়া ট্যাব গুলো একে একে ফিরে আসবে।

লুপ ইউটিউব ভিডিও

youtube loop

আপনি যদি ইউটিউবে একই ভিডিও বার বার দেখতে চান যেমন ভিডিও টিউটোরিয়াল তাহলে আপনার জন্য রয়েছে এই ব্যবস্থা। ইউটিউবের ভিডিও প্লে করা অবস্থায় মাউসের রাইট বাটন ক্লিক করে মেন্যু থেকে লুপ অপশনটি চালু করে দিন। কিংবা আপনার যদি অটো প্লেতে গান শুনার অভ্যাস থাকে তাহলে নিশ্চয় একই গান বার বার লুপ করে শুনবেন না। তাই তখন একই ভাবে রাইট ক্লিক করে লুপ অপশনটি অফ করে দিন। কিছু কিছু ক্ষেত্রে লুপ অপশনটি না পেলে একই জাগায় মাউস না নাড়িয়ে দুইবার রাইট বাটনে ক্লিক করবেন ভিডিও প্লে করে। তাহলেই ক্লাসিক সেটিংস পেয়ে যাবেন।

চেঞ্জ ওয়েবসাইট কনটেন্ট

content change

এটা খুব মজার। আপনি এই কৌশল প্রয়োগ করে ফ্রেন্ডদের চমকে দিতে পারেন। যে কোন ওয়েবসাইটের কাভার পেজ পালটে দিতে পারেন। আপনি এটা করে যে কোন ফ্রেন্ডকে খুব জলদি ভয় ধরিয়ে দিয়ে মজা করতে পারেন। যেমন  মনে করুন আমি ইন্সট্রাগ্রামের কাভার পেজ পালটে সেখানে লিখবো “Log in with ইচ্ছেমত পালটে দিন”। তাহলে প্রথমে ওই পেজে মাউসের রাইট ক্লিক করে inspect এ ক্লিক করতে হবে। তারপর console অপশনে গিয়ে document.designMode= “on” লিখে এন্টার চেপে শুরু করে দিন আপনার ইচ্ছা মত সব কিছু পাল্টে দেয়া। ইচ্ছে মত লিখা বা ডিলেট করে নিজের মত করে সাজানো যা ইচ্ছা তাই পারবেন। আসলে এটা ওয়েব সাইটের একটি এইচটিএমএল কপি।

ইজি কমান্ড প্রম্পট

easy command promt

আমরা যারা কমান্ড প্রম্পট নিয়ে কাজ করি তাদের প্রায়ই বিভিন্ন ড্রাইভ/ ফোল্ডারের লোকেশন দেখিয়ে দিতে হয় প্রোগ্রামের কমান্ডে। এতে নিজেকে টাইপ করে লিখতে হয়। কিন্তু এর চেয়েও একটা সহজ উপায় আছে। যে ড্রাইভ বা ফোল্ডারকে কমান্ডে উল্লেখ করতে চান সেই ড্রাইভের সার্চ বারে গিয়ে cmd লিখুন তারপর এন্টার চেপে কমান্ড প্রম্পটে গেলেই দেখতে পাবেন আপনার ড্রাইভ/ ফোল্ডার লোকেশনটি চিহ্নিত হয়ে গিয়েছে।

Run শর্টকাট

আমরা নিয়মিতই এই ফিচারটি ব্যাবহার করে থাকি win-7/10 এ। আমরা সারাদিন যে সকল কাজ করি সেগুলো run এর রিসেন্ট, টেম্পোরারি ফাইলে জমা হয়ে থাকে। এগুলো RAM এর মেমোরি অপচয় করে। তাই এগুলো নিয়োমিত পরিষ্কার করতে হয়। এই ক্ষেত্রে আমরা সাধারণত উইন্ডোজ অপশনে গিয়ে সার্চ করি run লিখে। আপনাকে হয়ত বার বার এমন করতে হতে পারে প্রতিদিনের জন্য। কিন্তু আপনি চাইলে এই run ফিচারটি শুধু windows (key) + r চেপেই পেয়ে যেতে পারেন।

জিমেইল আনডু

gmail undo

জিমেইলে আমরা সবাই কম বেশি মেইল আদান প্রদান করে থাকি। অনেক সময় দেখা যায় তাড়াহুড়া করতে গিয়ে এক জনের মেইল অন্য জনকে দিয়ে দেই। এমন অনেক মেইল থাকে যা খুব গোপনীয় আর সেনসিটিভ। যদি আপনি ভুলে অন্য জনকে মেইল দিয়ে ফেলেন বা মেইলটা সঠিক ভাবে না করেই পাঠিয়ে দিন অর্থাৎ তা কেটে দেয়ার প্রয়োজন থাকে তাহলে আপনাদের জন্য জিমেইলে আনডু করার অপশন রয়েছে। গুগলের সেটিংসে গিয়ে জেনারেল ট্যাব এ দেখতে পাবেন undo send নামের অপশন। এখানে আপনি চাইলে সময় সেট করে নিতে পারেন যে কত সময়ের মধ্যে আনডু করতে পারবেন প্রতিটি মেইল সেন্ড করার পর।

মাল্টি মেইলিং

আমাদের এমন অনেক মেইল থাকে যেগুলো একাধিক ব্যক্তিকে দেয়ার প্রয়োজন থাকে। এই ক্ষেত্রে হয়তো আপনি বলবেন cc/bcc করে পাঠানোর কথা। কিন্তু এমন মেসেজ থাকে যেগুলোর জেনুইন কপিটাই দিতে হয় ফলে cc/bcc  কাজে আসেনা। সমস্যা সমাধান করতে পারেন To বক্সে প্রতিটি মেইলের অ্যাড্রেস লিখে যোগ  (+) চিহ্ন দিয়ে প্রতিটি ইমেল অ্যাড্রেস লিখতে থাকুন।

বাইপাস শাট ডাউন অ্যান্ড আপডেট

bypass shut down

অনেক সময় দেখা যায় যে আমরা পিসি অফ করতে যাচ্ছি এই সময় সাটডাউন অপশনে লিখা আছে আপডেট অ্যান্ড সাটডাউন। কিন্তু আপনার খুব গুরুত্বপূর্ণ কাজে এখনই পিসি অফ করা দরকার। এই ক্ষেত্রে আপনি বিকল্প সাটডাউন অপশন নিশ্চয় খুঁজবেন? বিকল্প সাটডাউন পেতে (ডেস্কটপে) alt+F4 [ল্যাপটপে Fn + alt + F4] চাপলেই সাটডাউন মেন্যু পেয়ে যাবেন। এছাড়াও control+ alt+ delete চেপেও বিকল্প সাটডাউন মেন্যু পাবেন।

ট্যাব ইন টেক্সট ফিল্ড

আমরা বিভিন্ন অ্যাকাউন্ট লগইন করতে বা রেজিস্ট্রেশন করার সময় দেখতে পাই আলাদা আলাদা টেক্সট ফিল্ড। এগুলো পুরণ করতে আমরা লিখার পর মাউসে ক্লিক দিয়ে অন্য ফিল্ড পুরণ করি। কিন্তু আপনি চাইলে আলাদা ভাবে মাউসের ক্লিক না করেও ফিল্ড পুরণ করতে পারেন। জাস্ট Tab চাপুন আর একটার পর একটা ফিল্ড গুলো পুরণ করে যান কার্সর অটোম্যাটিক মুভ করবে।

এই ছিলো কম্পিউটারের বিশেষ কিছু সর্টকাট যা আপনাদের হয়তো অনেকেই জানেন আবার অনেকে জানলেও তেমন প্রয়োগ করেন না আবার অনেকেই নতুন ভাবে জানলেন। সর্টকাট গুলো আপনার কাছে কেমন লাগলো তা জানাবেন। আর আপনি আরো কিছু জেনে থাকলে কমেন্টে জানিয়ে দিন যেন আমরা সবাই তা জানতে পারি। এই সর্টকাট গুলো আসলে কম্পিউটার ব্যবহার করায় নতুন মাত্রা যোগ করে আরো উতসাহিত করে।

উপরোক্ত বিষয়টি পছন্দ হলে লাইক দিন, উপকারী মনে হলে অন্যদের সাথে শেয়ার করুন।

comments

S.M. Sojib Ahmed

উপরোক্ত আর্টিকেলটি লিখেছেন | Email: smsojibahmed@gmail.com | Facebook: https://www.facebook.com/sojib.ahemed.5