মাত্র ৫ সেকেন্ড পৃথিবীতে অক্সিজেন না থাকলে কি ঘটতে পারে?

আমাদের এই সুন্দর পৃথিবী বিভিন্ন ধরণের উপাদান দিয়ে গঠিত  যার মধ্যে অক্সিজেন অন্যতম। পৃথিবী যে সকল উপাদান দিয়ে গঠিত তাদের মধ্যে অক্সিজেন দুই নম্বর স্থানে রয়েছে। শতকরা (৩০.১%) অক্সিজেন দিয়ে পৃথিবী গঠিত। রসায়নের ভাষায় অক্সিজেন একটি রাসায়নিক মৌল এবং এর প্রতীক O। আর এই পৃথিবীর সকল প্রাণীর কাছে অক্সিজেন মানে  জীবন। অক্সিজেন ছাড়া পৃথিবীতে জীবের অস্তিত্ব কল্পনা করা যায় না। অক্সিজেন ব্যাতিত এই সুন্দর পৃথিবী প্রানহীন মরুভূমিতে পরিণত হবে। এখানে জীবনের কোন অস্তিত্ব থাকবে না। পৃথিবীতে বসবাসরত প্রতিটি প্রাণীর শ্বসনকার্য, রাসায়নিক যৌগ তৈরীসহ জানা-অজানা আরও বিভিন্ন ক্ষেত্রে অক্সিজেন ব্যবহৃত হয়ে থাকে।

কিন্তু আমাদের কাছে অক্সিজেন অত্যন্ত সহজলভ্য কারণ এটির জন্য আমাদের কোন টাকা-পয়সা খরচ করতে হয়না। খুব সহজেই আমরা প্রকৃতি থেকে বিনামুল্যে এটি পেয়ে থাকি। যার ফলে এটির প্রকৃত অবদান, গুরুত্ব আমরা মূল্যায়ন করতে পারি না। কখনও কি ভেবে দেখেছেন, ৫ সেকেন্ডের জন্যেও যদি এই অক্সিজেন পৃথিবী থেকে পুরোপুরি বিলুপ্ত হয়ে যায় তাহলে কি ঘটবে। চলুন আজকে জেনে নেয়া যাক কি ঘটবে যদি ৫ সেকেন্ড পৃথিবীতে অক্সিজেন না থাকে ?

অক্সিজেন ছাড়া পৃথিবী

বাতাসে বিদ্যমান অক্সিজেন কণা সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির বিকিরন শোষন করে আমাদের ত্বক পুড়ে যাওয়া থেকে রক্ষা করে।তাই অক্সিজেন যদি না থাকে তাহলে সমুদ্র সৈকতে খোলা আকাশের নিচে সূর্যের আলোয় থাকা মানুষদের ত্বক মূহুর্তের মধ্যে রোদে পুড়ে ঝলসে যাবে। তবে আপনি আমি রেহায় পেয়ে যাব তা কিন্তু নয়। আমাদের সকলেরই ত্বকের যেসব অংশ সূর্যের আলোয় থাকবে সে অংশ পুড়ে যাবে।

দিনের বেলায় আলোকিত আকাশ মুহূর্তের মধ্যে ঘনকালো অন্ধকারে ছেয়ে যাবে। কারণ বায়ুমন্ডলে আলো বিক্ষেপনকারী যে সকল ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কণিকাসূমহের কারণে আকাশ নীল দেখায় সেসব কণিকাগুলো হ্রাস পাবে।

আমাদের আশেপাশে বিদ্যমান ছোট-বড় সকল প্রাকার অপরিশোধিত ধাতব পদার্থ একে অপরের সাথে সংযুক্ত হয়ে যাবে। কেননা শুধুমাত্র একাটি জিনিসই এসব পদার্থকে একে অপরের সাথে সয়ক্রিয়ভাবে সংযুক্ত হওয়া থেকে বাধা দিতে পারে আর সেটি হল অক্সিজেন। যেহেতু অক্সিজেন থাকবে না সেহেতু এসব পদার্থ সয়ক্রিয়ভাবেই একে অপরের সাথে সংযুক্ত হয়ে যাবে।

পৃথিবীর ভূত্বকের যেসব উপাদান রয়েছে এর মধ্যে অক্সিজেন ৪৫ ভাগ। যার ফলে পৃথিবী পৃষ্ঠ টুকরো টুকরো হয়ে যেতে শুরু করবে। আমাদের শেষ সম্বল পায়ের নিচের মাটিও আর থাকবে না। কি ভয়ংকার তাই না !

শুধু কি মাটি, আমরা জানি পানির তিন ভাগের এক ভাগ অক্সিজেন। সুতরাং সাগরের পানিতেও রয়েছে  অক্সিজেন যার ফলে সমস্ত সাগরের পানি নিমিষেই বাষ্পিভূত হয়ে হাইড্রোজেন গ্যাসে পরিণত হবে এবং সবকিছু মহাশূন্যে বিলীন হয়ে যাবে।

অক্সিজেনের অনুপস্থিতিতে পৃথিবীতে বায়ুর চাপ ২১ ভাগ হ্রাস পাবে যার ফলে প্রতিটি প্রাণীর কানের ভেতরের অংশ বিষ্ফরিত হবে।

 

আবার এই অক্সিজেনের অনুপস্থিতির কারনে কংক্রিটের তৈরি ভবন, ভাস্কর্য সবকিছু বিধ্বস্ত হয়ে ধুলোয় মিশিয়ে যাবে। কারণ কংক্রিটের কণাগুলোকে পরস্পর যুক্ত রাখার মত বাতাসে পর্যাপ্ত পরিমানে অক্সিজেন থাকবে না। সবকিছু ধ্বংস হয়ে যাবে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে। ঘটনাটি হবে এমন যে, একটি পারমাণবিক বোমা বিস্ফোরিত হল এবং সবকিছু ধুলিস্বাত করে দিল। যেহেতু পরিবেশ অক্সিজেনবিহীন হয়ে পড়বে সুতরাং হাইড্রোজেন মুক্ত হয়ে বায়ুমন্ডলের ট্রপোস্ফিয়ারে উড়ে চলে যাবে অতঃপর মহাশূন্যে হারিয়ে যাবে।

এগুলো ছাড়াও ঘটে যেতে পারে আরও অনেক না জানা ঘটনা যা আমরা কল্পনাও করতে পারিনা। তো এসব ঘটবে জানার পর  আপনার মনে হুট করে ইচ্ছা হয়ে যেতেই পারে এসবকিছু ক্যামেরাবন্দি করে রাখবেন। সত্যিই যদি এমন চিন্তা এসে থাকে মাথায় তবে আপনার জন্য সমবেদনা। কারণ দুঃখের বিষয় ক্যামেরা এবং আপনি কেউই থাকবেন না। কেননা মানুষ হয়তোবা ৫ সেকেন্ডের জন্য অক্সিজেন না নিয়ে অনায়াসেই নিজের শ্বাস বন্ধ রাখতে পারবে কিন্তু মানুষের দেহের মাঝে থাকা বিভিন্ন জৈবযৌগের মধ্যেও অক্সিজেন রয়েছে যার ফলে অক্সিজেন বিলুপ্ত হবার সাথে সাথে শরীরের জীবন্ত কোষগুলো বাস্পিভবনের মাধ্যমে হাইড্রোজেন গ্যাসে পরিণত হয়ে শূন্যে ভেসে বেড়াবে। অক্সিজেন ও হাইড্রোজেন না থাকায় আমরা আমাদের দেহের গাঠনিক উপাদানের ৭৫ ভাগ হারিয়ে ফেলব। আর বাকি থাকল ক্যামেরা, ধাতব পদার্থ হওয়ায়  সেটি গলে যাবে। সূতরাং পৃথিবীর এই ভয়ংকার অবস্থা দেখার জন্য কেউই জীবিত থাকবে না।

এসব ভয়ংকার পরিণতি হবে জানার পর  আপনি হয়তো অক্সিজেনের প্রকৃত গুরুত্ব বুঝতে পেরেছেন। অক্সিজেনের প্রধান উৎস আমাদের আশেপাশের সবুজ গাছ-পালা উদ্ভিদ। কিন্তু দুঃখের বিষয়  দিন দিন যে হারে গাছ-পালা নিধন হচ্ছে তাতে এমন ভয়াবহ পরিস্থিতির শিকার হতে পৃথিবীকে কেউ রক্ষা করতে পারবে না। সূতরাং এই সুন্দর পৃথিবীকে সুন্দর রাখতে সকলকে এখনই উদ্যোগ নিতে হবে।

উপরোক্ত বিষয়টি পছন্দ হলে লাইক দিন, উপকারী মনে হলে অন্যদের সাথে শেয়ার করুন।

comments