ল্যাপটপ বা ডেস্কটপ কেনার আগে যা যা জানতে হবে

ল্যাপটপ বা ডেস্কটপ কেনার আগে যা যা জানতে হবে বা কেনার আগে করণীয় কি কিংবা কেনার পর করণীয় কি এসব বিস্তারিত বিষয় তুলে ধরব আজকের পোস্টে। আধুনিক এই সময়ে হাতে একটা স্মার্ট ফোন আর একটা পিসি না থাকলে নিজেকে বড়ই বেমানান লাগে। আর যদি এই আধুনিকতার ছোঁয়ায় একটা পিসি যোগ হয় তাহলে তো নিজেকে অন্য লেভেলের সুখি মনে হয়। ল্যাপটপ বা ডেস্কটপ আপনার কাজের পাশাপাশি বিকল্প বিনোদনের ডিভাইসও হতে পারে। যাইহোক, যে কাজের জন্যই ল্যাপটপ বা ডেস্কটপ কিনুন না কেন, সমস্যা বাঁধে কেমন ল্যাপটপ বা ডেস্কটপ কিনবেন আর কেমন টেকসই হবে এই নিয়ে।

ডেস্কটপ কেনার পূর্বে

কতটুকু র‍্যাম প্রয়োজনীয়?

এটি সম্পূর্ণ রূপে নির্ভর করে আপনার ব্যবহারের ওপর। তবে আমাকে কেউ বেসিক পিসি বিল্ড করার প্রশ্ন করলে আমি সর্বনিম্ন ৮ জিবি র‍্যামের আবশ্যকতা ব্যক্ত করি। কারণ আমি জানি, আপনি যতোই বেসিক কাজের জন্য পিসি কিনে থাকুন না কেন—হালকা পাতলা ফটোশপ, ইন্টারনেট ব্রাউজিং, দুই একটা ভিডিও এডিট করার প্রয়োজন পড়বেই। আর নতুন ব্রাউজার, সাথে ক্রোম বা ফায়ারফক্স নিজেরায় র‍্যাম খাওয়ার ওস্তাদ। সাধারণ ইন্টারনেট ব্রাউজিং এ এক সাথে ৫-৬ ট্যাব ওপেন থাকতেই ব্রাউজার গুলো ৫০০ এম্বি+ (কখনো ১ জিবি পর্যন্ত) র‍্যাম গিলে ফেলে। আর ফটোশপ বা ভিডিও এডিটিং সফটওয়্যার গুলো তো একেক জনেই ২ জিবি করে র‍্যাম খেতে পছন্দ করে। সুতরাং আপনি যতোই বেসিক পিসি বিল্ড করুন না কেন অবশ্যই আপনার সর্বনিম্ন ৮ জিবি র‍্যাম লাগবেই। ওহ… বলতে তো ভুলেই গেছিলাম… আপনার অপারেটিং সিস্টেম নিজেই মোটামুটি ২ জিবির মতো র‍্যাম বুক করে রাখে।

ধরুন ৪ জিবি র‍্যাম ওয়ালা একটি ল্যাপটপ বা ডেস্কটপ কিনলেন। আজকের দিনে অপারেটিং সিস্টেম হিসেবে অবশ্যই উইন্ডোজ ১০ ব্যবহার করবেন আর না হলে নিশ্চয় উইন্ডোজ ৭। এখন ধরুন আপনার পিসি অন হওয়ার সাথেই ১.৫ জিবি র‍্যাম অপারেটিং সিস্টেম নিয়ে নিল আর বাকি থাকলো ২.৫ জিবি র‍্যাম। এতোটুকু র‍্যামে ইন্টারনেট ব্রাউজারে কয়েকটি ট্যাব ওপেন রাখলে আর সাথে কিছু মিডিয়া প্লে করার জন্য উপযোগী হতে পারে। কিন্তু ধরুন ফটোশপ ওপেন করতে হলো কোন কাজে, তখন? হ্যাঁ, তখনও চলবে কিন্তু চলতে চলতে উইন্ডোজ থেকে ম্যাসেজ আসবে “আপনার সিস্টেমের মেমোরি লো, দয়াকরে ফটোশপ ক্লোজ করে দিন” (ব্যস্তব অভিজ্ঞতা থেকে বললাম)। তো এখন কি করবেন?

দেখুন র‍্যাম হলো আপনার কম্পিউটার বা আপনার কম্পিউটিং ডিভাইজের এমন একটি মেমোরি যা অনেক ফাস্ট হয়ে থাকে এবং এর কাজ হলো সকল কাজের ফাইল গুলোকে প্রসেসর পর্যন্ত খুবই দ্রুত সার্ভ করা। এখন নিশ্চয় প্রশ্ন করবেন, “তাইলে হার্ডড্রাইভ কি মুখ দেখতে আছে?” —ব্যস্তবিকভাবে হার্ডড্রাইভ কখনোই র‍্যামের গতির সাথে পাল্লা দিতে পারে না। আপনি যখন কম্পিউটারে কোন টাস্ক করতে আরম্ভ করেন, আপনার প্রসেসর সর্বদা একের পর এক ডাটা রিকোয়েস্ট করতেই থাকে, আর এই ডাটা গুলো যতো দ্রুত প্রসেসরে পাঠানো সম্ভব ততোই ভালো। বর্তমানের আধুনিক র‍্যাম ১২,৮০০ মেগাবাইট প্রতি সেকেন্ড পর্যন্ত স্পীড সমর্থন করতে পারে, যেখানে আজকের সর্বাধুনিক হার্ডড্রাইভ থেকে কেবল ১৫০ মেগাবাইট প্রতি সেকেন্ড স্পীড পাওয়া যায়। তো গতির পার্থক্যটা বুঝতে পারলেন? সুতরাং র‍্যাম বাদে যদি হার্ডড্রাইভ কাজে লাগিয়ে প্রসেসরে ডাটা পাঠানো হয় তবে কচ্ছপ গতিতে প্রসেসরে ফাইল ট্র্যান্সফার হবে এবং সর্বোপরি আপনার সম্পূর্ণ সিস্টেম কচ্ছপ হয়ে যাবে (মনে রাখবেন, শুধু গল্পেই কচ্ছপ জেতে, আসল জীবনে নয়!)।

পিসি ফাস্ট বা স্লো হওয়া শুধু র‍্যামের উপর নির্ভর করে না। আপনি কোন প্রসেসর ব্যবহার করছেন, কোন জিপিইউ ব্যবহার করছেন, প্রসেসরে এবং র‍্যামে ক্যাশ মেমোরি কতটুকু রয়েছে ইত্যাদি বিভিন্ন বিষয়ের উপর খেয়াল করার পরে একটি পিসির স্লো বা ফাস্ট হওয়া নির্ভর করে। অনেক সময় আপনার পিসির হার্ডড্রাইভ পরিবর্তন করে এসএসডি লাগানোর ফলে আপনার পিসির পারফর্মেন্স এবং স্পীড দুইই বৃদ্ধি পেয়ে যেতে পারে—অবশ্যই সেম র‍্যাম ব্যবহার করেই। আগেই বলেছি হার্ডড্রাইভ কেবল ১৫০ মেগাবাইট প্রতি সেকেন্ড স্পীড দিতে পারে যেখানে আজকের মর্ডান এসএসডি ৫০০ থেকে কয়েক হাজার মেগাবাইট প্রতি সেকেন্ড পর্যন্ত স্পীড দিতে পারে।

RAM এর আরেকটি আসল বিষয় হলো এর ধরন। সকল ২ জিবি RAM এক প্রকারের হয়না আবার সকল ৪ জিবি RAM ও এক প্রকারের হয় না। যেমনটা আপনারা জানেন যে প্রসেসর এর মধ্যেও স্পীড এর পার্থক্য আছে ঠিক তেমনই RAM এর স্পীড এর ও পার্থক্য থাকে। আপনি যদি আমার প্রসেসর বিষয়ে লেখা বিস্তারিত পোস্টটি না পরে থাকেন তবে তা পড়ে আসতে পারেন। প্রসেসর এর স্পীড কাজ করে একটি ক্লক এবং গিগাহার্জ এর রূপে। ঠিক তেমনি RAM এর ভেতরও ক্লক স্পীড থাকে।

আপনারা অনেক সময় হয়তো শুনে থাকবেন DDR3 RAM এর কথা অথবা DDR4 RAM এর কথা। তো এগুলো হলো RAM এর ধরন। বিভিন্ন ক্লক স্পীড এর RAM থাকে, যেমনঃ ৮০০ মেগাহার্জ, ১,০০০ মেগাহার্জ কিংবা ১,৪০০ মেগাহার্জ। যতো মেগাহার্জ বেশি হবে RAM ততো বেশি গতি সম্পূর্ণ হবে।

৩২ বিট বনাম ৬৪ বিট প্রসেসর | আপনার কোনটি কেনা উচিৎ?

দেখুন একটি ৩২ বিট প্রসেসর শুধু মাত্র ৪ জিবি র‍্যামকেই কাজে নিতে পারে। যদি আপনার কম্পিউটারে ৪ জিবির উপর র‍্যাম ব্যবহার করেন তবে আপনাকে একটি ৬৪ বিট প্রসেসর ব্যবহার করতে হবে। এমনটা কেন হয়, দেখুন একটি ৩২ বিট প্রসেসরে ৩২ বিট থাকে। অর্থাৎ সেখানে ৩২ টি এমন ভাল্যু থাকে যা আলাদা আলদা জিরো এবং ওয়ান দ্বারা পরিবর্তন করা যায়। এবং এই ৩২ টি ভাল্যু শুধু মাত্র ৪ জিবি পর্যন্ত মেমোরি অ্যাড্রেসিং স্টোর করতে পারে। যেখানে একটি ৬৪ বিট প্রসেসর ১৬ বিলিয়ন গিগাবাইটস মেমোরি অ্যাড্রেসিং স্টোর করতে পারে। হয়তো সামনের ১০/২০ বছরেও এতো মেমোরির প্রয়োজন পড়বে না, কিন্তু আপনি যদি ৪ জিবির উপর র‍্যাম ব্যবহার করেন তবে অবশ্যই একটি ৬৪ বিট প্রসেসরের প্রয়োজন পড়বে। তাছাড়াও যেসব সফটওয়্যার ৬৪ বিটের হয় সেগুলাকে ৩২ বিটের সিস্টেম চলবে না। যেমন আফটার ইফেক্ট। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে এই আর্টিকেলটি পড়ুন।

এসএসডি (SSD) বনাম এইচডিডি (HDD)

আপনি যদি আরো দ্রুতগামী পারফর্মেন্স দেখতে চান তবে এবার সময় এসেছে হার্ড ড্রাইভ বাদ দিয়ে সলিড স্টেট ড্রাইভে সুইচ করার। সলিড স্টেট ড্রাইভ বা এসএসডি হলো ফ্ল্যাশ নির্ভর মেমোরি যাতে সাধারণ হার্ড ড্রাইভের মতো কোন ঘূর্ণায়মান ডিস্ক থাকে না এবং এটি অনেক বেশি ফাস্ট হয়ে থাকে। ৫,৪০০ আরপিএম ড্রাইভ গড়ে ১০০ মেগাবাইটস প্রতি সেকেন্ড স্পীড দিতে পারে এবং ৭,২০০ আরপিএম ড্রাইভ গড়ে ১৫০ মেগাবাইটস প্রতি সেকেন্ড পর্যন্ত স্পীড দিতে পারে। কিন্তু সলিড স্টেট ড্রাইভ দিতে পারে ৫০০ মেগাবাইটস প্রতি সেকেন্ড স্পীড এবং বর্তমানে নতুন এসএসডি গুলো আরো ফাস্ট স্পীড দিতে সক্ষম। সলিড স্টেট ড্রাইভের অসুবিধা হলো এখনো অনেক কম ক্যাপাসিটির ড্রাইভ বাজারে পাওয়া যায় এবং সেগুলোর দাম হার্ড ড্রাইভের তুলনায় অনেক বেশি।

ক্যাশ মেমোরি (Cache Memory) কি?

মনে করুন আপনি একটি অফিসে কাজ করেন এবং আপনি একটি ডেস্কে বসে কাজ করেন। মনে করুন একটি ব্যাক অফিস আছে এবং সেখানে আপনার সকল কাজের ফাইলস আছে। এখন ধরুন ব্যাক অফিসটি হলো আপনার কম্পিউটারের হার্ডড্রাইভ এবং আপনার কাজ করার ডেস্কটি হলো কম্পিউটারের র‍্যাম। তো যখনই আপনি কাজ করার প্রয়োজন বোধ করেন তখন আপনাকে উঠে সেই রুমে যেতে হয় ফাইল আনতে অথবা আপনি আপনার পিওনকে কল করেন সে ফাইল গুলো এনে দিলে আপনি কাজ করা শুরু করতে পারেন। এখন আপনার ডেস্ক যতো বড় হবে আপনি ততো বেশি ফাইল একসাথে মেলিয়ে কাজ করতে পারবেন, যেটা র‍্যাম এর উদাহরণ। এখন মনে করুন আপনার ডেস্কে দুইটি ড্রয়ার আছে এবং মনে করুন এটিই ক্যাশ মেমোরি। যদিও ড্রয়ার আপনার ডেস্ক থেকে অনেক ছোট কিন্তু সেটি অনেক সহজে অ্যাক্সেস অ্যাবল। সহজেই ড্রয়ার খুলতে পারবেন এবং কাজের জিনিস বের করে কাজ শুরু করে ফেলতে পারবেন। এখন আপনি ড্রয়ারে অবশ্যই এমন কিছু জিনিষ রাখেন যা আপনার সবচাইতে বেশি প্রয়োজন পড়ে, যেমন স্টাপল্যার, কোন স্ট্যাম্প, কোন গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্ট বা কোন প্রপোজাল। তো এই ড্রয়ার গুলো হলো আপনার ক্যাশ মেমোরি।

ক্যাশ মেমরি মোট তিন প্রকারের হয়ে থাকে। লেভেল ওয়ান, লেভেল টু এবং লেভেল থ্রী। আপনার কম্পিউটারের প্রসেসর হয়তো ডুয়াল কোর হবে বা কোয়াডকোর বা অক্টাকোর হবে, দেখুন প্রত্যেকটি কোরের দুটি মেমোরি আলদা করা থাকে  লেভেল ওয়ান এবং লেভেল টু ক্যাশে এবং লেভেল থ্রী ক্যাশ বেশির ভাগ সময় প্রসেসরের বাকী কোর গুলো নিজেদের মধ্যে শেয়ার করে একসাথে।

লেভেল ওয়ান ক্যাশ সবচাইতে দ্রুতগামী হয়ে থাকে এবং এটি প্রসেসরের ভেতরেই অবস্থিত হয়ে থাকে। লেভেল টু ক্যাশ প্রসেসরের ভেতরেও হতে পারে আবার প্রসেসরের বাইরে সবচেয়ে কাছে লাগানো একটি আলদা আইসিতেও হতে পারে। কিন্তু প্রসেসর এবং ঐ আইসির মাঝখানে একটি হাই স্পীড বাস থাকে যার মাধ্যমে প্রসেসর খুব দ্রুত ভাবে ঐ আইসিকে অ্যাক্সেস করতে পারে। এবং লেভেল থ্রী ক্যাশ একটি সম্পূর্ণ আলাদা মেমোরি হয়ে থাকে এবং র‍্যাম থেকে প্রায় দ্বিগুণ গতি সম্পূর্ণ হয়ে থাকে। এবং এই মেমোরি প্রসেসরের সকল কোরের সাথে শেয়ার হয়ে থাকে।

কম্পিউটার প্রসেসর এর জেনারেশন চেনার উপায়

কম্পিউটার প্রসেসর এর জেনারেশন প্রসেসরটির মডেল থেকেই চেনা যেতে পারে। প্রসেসর কেনার সময় এর জেনারেশন দেখে কেনাটা আবশ্যক তাই জেনারেশন চেনারও গুরুত্ব থাকে। মনে করুন একটি প্রসেসর এর মডেল ইনটেল কোর i7 ৪৭৭০ এবং আরেকটি প্রসেসর এর মডেল ইনটেল কোর i7 ৫৭৭০। এখানে প্রথম প্রসেসরটি ৪র্থ জেনারেশন এবং দ্বিতীয় প্রসেসরটি ৫ম জেনারেশন। লক্ষ করলে দেখতে পাবেন যে এর জেনারেশন সংখ্যা এর মডেল সংখ্যার প্রথম সংখ্যা। এভাবেই আপনি খুব সহজেই কম্পিউটার প্রসেসর এর জেনারেশন চিনতে পারবেন।

ইনটেল প্রতি বছর নতুন জেনারেশন মুক্তি প্রদান করে। এখন প্রশ্ন হলো যে এই জেনারেশন জিনিসটি কি? আসলে জেনারেশন হলো, ইনটেল প্রতি বছর যে প্রসেসর তৈরি করে তার উৎপাদন টেকনিক কতটা উন্নত এবং কতটা ছোট। আসুন বিষয়টিকে আরো পরিষ্কার করে বোঝানোর চেষ্টা করি। একটি সাধারন প্রসেসর এর ভেতরে লক্ষ্য লক্ষ্য এবং কোটি কোটি ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ট্র্যান্সিস্টর (Transistor) লাগানো থাকে। ইনটেল প্রত্যেক বছরে অর্থাৎ প্রসেসর এর প্রতিটি নতুন জেনারেশন এ এই ট্র্যান্সিস্টর গুলো কতো বেশি ক্ষুদ্র করে বানিয়েছে তা প্রকাশ করে। কম্পিউটার প্রসেসর এর ট্র্যান্সিস্টর গুলো যত বেশি ক্ষুদ্র হবে ততো বেশি দ্রুত গতি সম্পূর্ণ হবে, ততো বেশি দক্ষ হবে এবং কম পাওয়ার ব্যবহার করবে।

বর্তমানে সবচাইতে আধুনিক কম্পিউটার প্রসেসর এর ট্র্যান্সিস্টর এর মাপ হলো ১৪ ন্যানো মিটারস। কয়েক বছর আগে ২০ ন্যানো মিটারস ছিল এবং বেশ কয়েক বছর আগে ২৮ ন্যানো মিটারস ছিলো, তার আগে ১০০, ১৫০ ইত্যাদি ছিলো। তো দেখতে পাচ্ছেন এই ট্র্যান্সিস্টর এর মাপ কয়েক বছরে ধিরে ধিরে কমতে কমতে আজকের এই ১৪ ন্যানো মিটারস এ পৌঁছিয়েছে। এখন যদি আপনি আমাকে প্রশ্ন করেন যে, ৪র্থ জেনারেশন উত্তম না ৫ম জেনারেশন না ৬ষ্ঠ? দেখুন এতে কোনো সন্দেহ নেই যে যত আধুনিক জেনারেশন এর প্রসেসর হবে ঠিক ততোটাই উন্নত প্রসেসর হবে। কেনোনা সর্বাধুনিক জেনারেশন এর প্রসেসর এ ট্র্যান্সিস্টর সবচেয়ে ক্ষুদ্র হবে। এবং আমি আগেই বলেছি ট্র্যান্সিস্টর গুলো যত বেশি ক্ষুদ্র হবে ততো বেশি দ্রুত গতি সম্পূর্ণ হবে, ততো বেশি দক্ষ হবে এবং কম পাওয়ার ব্যবহার করবে। তাহলে সর্বাধিক কর্মক্ষমতা পাওয়ার জন্য সর্বাধুনিক জেনারেশন এর প্রসেসর ক্রয় করতে হবে এতে কোনো সন্দেহ নাই।

কোর i3, i5, i7 কোনটা ব্যবহার করবেন?

আপনি যদি একজন সাধারন ব্যবহারকারী হয়ে থাকেন। যেমন ধরুন আপনি ইন্টারনেট ব্যবহার করতে চান কিংবা মাইক্রোসফট অফিস এর কাজ করবেন অথবা হালকা গেম খেলতে চান এবং সাথে মুভিজ, মিউজিক উপভোগ করতে চান তবে ইনটেল কোর i3 প্রসেসর আপনার জন্য ভালো হবে। আপনাকে অঝতা টাকা খরচ করে ইনটেল কোর i5 বা ইনটেল কোর i7 প্রসেসর কিনতে হবে না।

এখন আপনি যদি মধ্যম মাপের ব্যবহারকারী হোন। যেমন মনে করুন আপনি ফটো সম্পাদন করবেন অথবা বেশ কিছু মাল্টিটাস্ক করবেন তবে আপনার জন্য ইনটেল কোর i5 প্রসেসরটি ভালো হবে। তাছাড়া শুধু নাম দেখে প্রসেসর ক্রয় করা থেকে বিরত থাকবেন। প্রসেসর কেনার সময় এর মডেল দেখবেন, এর জেনারেশন দেখবেন, ক্যাশ মেমোরির ইত্যাদি পর্যবেক্ষণ করে তবেই প্রসেসর নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নেবেন।

আগেই বলে রাখি আপনি যদি অনেক অগ্রসর ব্যবহারকারী না হয়ে থাকেন তবে ইনটেল কোর i7 প্রসেসর আপনার কোনো কাজের না। আপনি যদি হাই-কোয়ালিটি ভিডিও রেন্ডার করতে চান অথবা 3D রেন্ডার করতে চান কিংবা হাই-কোয়ালিটি গেমিং করার কথা ভাবেন, তাহলে শুধু তখনই কম্পিউটার প্রসেসর ইনটেল কোর i7 এর প্রয়োজন পড়বে আপনার।

ইনটেল প্রসেসর, না এএমডি প্রসেসর

এএমডি প্রসেসর অনেক বেশি পাওয়ার ক্ষয় করে ইনটেল প্রসেসর এর তুলনায়। এএমডির তুলনায় ইনটেলের চিপ ভোল্টেজ প্রায় ৫০% কম, তাই ইনটেল অনেক কম পাওয়ার ক্ষয় করবে। এই অবস্থায় আমার মতে আপনি যদি আপনার বাজেট সামান্য একটু বাড়াতে পারেন তবে মোটামুটি ৩০-৩৫ হাজারের আশেপাশে একটি ইনটেল প্রসেসরের ল্যাপটপ পেয়ে যাবেন, সেটা ইনটেল আই৩ হোক আর আই৫। এএমডিতে আপনি ভালো ব্যাটারি লাইফ পাবেন না। কিন্তু ডেক্সটপে যেহেতু ব্যাটারির চিন্তা নেই, তাই কম বাজেটের মধ্যে ভালো পারফর্মেন্স পাবার জন্য এএমডি আপনার জন্য ভালো হবে।

যদি আমরা দাম থেকে শুরু করে এদের তুলনা করতে যায় তবে আপনারা সকলেই হয়তো জানেন যে ইনটেল প্রসেসর এর দাম এএমডির তুলনায় একটু বেশি।

এবার সকল সিদ্ধান্ত গুলো একত্র করা যাক। প্রথমত আপনার একটি বাজেট পিসি কেনা প্রয়োজন, তো বেশি অপশন নেই, সোজা এএমডি কিনে ফেলুন, সেটা ল্যাপটপ হোক আর ডেস্কটপ। আপনার যদি হাই-এন্ড প্রয়োজন তো বিনা দ্বিধা দণ্ডে ইনটেল নিয়ে ফেলুন। যদি গেমিং করতে চান এবং ডেস্কটপে, তবে এএমডি নিন কিছু টাকা জিপিইউ তে লাগিয়ে ফেলুন এতে অনেক ভালো গেমিং পারফর্মেন্স পাবেন। আর যদি অডিও ভিডিও এডিটিং করতে বা আরো হাই-এন্ড কাজ করতে চান তবে ইনটেল এবং যদি এমনটা চান যে সবকিছু মোটামুটি এভারেজ হবে তবে, ইনটেল আপনার জন্য বেস্ট হবে। আপনি ৩৫-৪০ হাজার ইনভেস্ট করলেই একটি ভালো মানের ইনটেল ল্যাপটপ বা ডেক্সটপ কিনতে পারবেন।

গ্রাফিক্স কার্ড কেন লাগবে?

ধরুন আপনি আপনার বাড়িতে একা এবং বাড়ির সাজগোজ, পরিষ্কার পরিছন্ন, বাজার ইত্যাদি সব আপনাকেই করতে হয়। এবার ধরুন আপনি একটি কাজের লোক ঠিক করলেন, যে বাজার করা আর পরিষ্কার পরিছন্নতার দায়িত্ব নিল, তবে সেই সময়ে আপনি আরামে আপনার আলাদা কাজ গুলো করতে পারবেন। আপনার সিস্টেমে গ্রাফিক্স কারডের এর ভূমিকা অনেকটা এই রকমই।

কম্পিউটারে সাধারনত জিপিইউ দুই ধরনের হয়ে থাকে। একটি হলো ইনবিল্ড এবং আরেকটি হলো ডেডিকেটেড। কম্পিউটারের সিপিইউ এর ভেতরই একটি ইউনিট থাকে সেখানে এটি লাগানো থাকে, সেটা ইনটেল সিপিইউ হোক আর এএমডি সিপিইউ হোক। এবং সকল সাধারণ গ্রাফিক্স প্রসেস করা কাজে আসে এটি। কিন্তু যদি আপনার সিস্টেম এর গ্রাফিক্স প্রয়োজনীয়তা অনেক বেশি হয় তবে প্রসেসরের ভেতর লাগানো এই ছোট ইউনিট দিয়ে কাজ হবে না। এর জন্য প্রয়োজন হবে একটি ডেডিকেটেড গ্রাফিক্স কার্ড। অনেক সময় হয়তো আপনারা শুনে থাকবেন ১ জিবি ডিডিআর ৩ গ্রাফিক্স কার্ড, ২ জিবি ডিডিআর ৫ গ্রাফিক্স কার্ড ইত্যাদি। এবং এই আলাদা গ্রাফিক্স কার্ড গুলো লাগানোর বদৌলতে আপনার সিস্টেমের গ্রাফিক্স বুস্ট করা সম্ভব।

আজকের দিনে বেশিরভাগ মাদারবোর্ডে বিল্ড ইন ইনটেল গ্রাফিক্স থাকে, কিন্তু এটি একদম নরমাল ব্যবহার বা সাধারন গেমিং করার জন্য। আপনি যদি হাই এন্ড গেমিং করতে চান অথবা ভিডিও রেন্ডার করেন তবে আপনাকে একটি ডেডিকেটেড সর্বনিম্ন ২ জিবি (৪ জিবি রেকমান্ডেড) গ্রাফিক্স কার্ড বা ইউনিট লাগানোর প্রয়োজন পড়বে। তথ্য সুত্র ও ক্রেডিট: techubs.net

ল্যাপটপ কেনার পূর্বে

কোথা থেকে কিনবেন

ওয়ারেন্টি! ওয়ারেন্টি! ওয়ারেন্টি। এর বাইরে কোন কথা নেই। ওয়ারেন্টি ছাড়া কোন ল্যাপটপ কেনা বুদ্ধিমানের কাজ হবে না। সুতরাং যে সব দোকান আপনাকে বিক্রয়উত্তোর সেবা নিশ্চিত করবে তাদের কাছ থেকেই কিনবেন।

বর্তমানে ল্যাপটপের নকশা ও প্রযুক্তিতে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। এখন সাধ্যের মধ্যে প্রয়োজনীয় ল্যাপটপ বেছে নেওয়াটা কঠিন বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ল্যাপটপ কেনার সময় কিছু বিষয় মাথায় রাখলে আপনার সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হতে পারে। যেমন,

সিনেমা দেখা বা ইন্টারনেট ব্রাউজের জন্য

আপনি যদি টাচ বা স্পর্শ করে পণ্য চালাতে পছন্দ করেন, তবে টাচস্ক্রিন ল্যাপটপ আপনার জন্য ভালো হবে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, উইন্ডোজ ১০ ইন্টারফেসের টাইল ও জেশ্চার আপনার টাচস্ক্রিন অভিজ্ঞতাকে উন্নত করবে এবং তা সহজে ব্যবহার করতে পারবেন। উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেমনির্ভর ল্যাপটপগুলোতে ওয়েব পেজ ব্যবহার করা সহজ। এ ছাড়াও ছবি ও ডকুমেন্টস দেখতেও সুবিধা হয়। টাচস্ক্রিন ল্যাপটপ আপনি কিবোর্ডযুক্ত ল্যাপটপ হিসেবেও ব্যবহার করতে পারেন। বাজারে ৫০ হাজার টাকার মধ্যে টাচস্ক্রিন সুবিধার ল্যাপটপ পাবেন। সাধারণত সিনেমা দেখা, গান শোনা, ইন্টারনেট ব্যবহার করাসহ ছোটখাটো কাজের জন্য কম দামের ল্যাপটপ কেনাই যথেষ্ট। এ ক্ষেত্রে ১৫ ইঞ্চি পর্দার মনিটরসহ ল্যাপটপ কিনতে পারেন।

ব্যবহার অনুযায়ী ল্যাপটপের আকার

আপনি যদি বেশি বেশি ভ্রমণ করেন তখন আপনার জন্য হালকা-পাতলা ল্যাপটপ বা আলট্রাবুক ভালো হবে। ১২ থেকে ১৩ ইঞ্চি মাপের যে ল্যাপটপে দীর্ঘক্ষণ চার্জ থাকে সেটি কিনবেন। যদি বাড়ি বা অফিসের কাজের জন্য ল্যাপটপ কিনতে চান তবে ১৪ ইঞ্চি বা ১৫.৬ ইঞ্চি মাপের ডিসপ্লেযুক্ত ল্যাপটপ কিনুন। আপনি যদি গেমার বা ছবি ও ভিডিও সম্পাদনার কাজের জন্য ল্যাপটপ চান তবে আপনাকে শক্তিশালী ল্যাপটপ বেছে নিতে হবে। এ জন্য ১৫.৬ বা ১৭ ইঞ্চি মাপের ডিসপ্লেযুক্ত ল্যাপটপ কিনতে পারেন। আপনি যদি সব সময় সঙ্গে করে ল্যাপটপ নিয়ে ঘোরেন তবে আপনার জন্য ধাতব কাঠামোর ল্যাপটপ যুত্সই হবে। আপনার ল্যাপটপ যদি বাড়ির সকলেই ব্যবহার করে তবে তা ধাতব কাঠামো ও করপোরেট মডেলের হলে ভালো হবে। প্রচলিত প্রায় সব ল্যাপটপের ব্যাটারি লিথিয়াম আয়নের হয়ে থাকে। এতে যত বেশি সেল (৪-১২) থাকবে, ব্যাটারি তত বেশি সময় চার্জ ধরে রাখতে পারবে।

তথ্য ধারণ ক্ষমতা

ল্যাপটপ কেনার সময় খেয়াল রাখবেন তাতে কতটুকু তথ্য আপনি সংরক্ষণ করতে পারবেন। এখনকার দিনে ১৫.৬ ইঞ্চি ল্যাপটপ ছাড়া অপটিক্যাল ড্রাইভের ব্যবহার কম দেখা যায়। এখন হার্ডড্রাইভের পরিবর্তে ফ্ল্যাশ ভিত্তিক ড্রাইভ এসএসডিও ব্যবহার হতে দেখা যাচ্ছে। ফ্ল্যাশ স্টোরেজ দামি হলেও এর নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি কম। এর আকার ছোট এবং কাজ করে দ্রুত। আগের দিনের মানুষের জন্য ৫০০ জিবি জায়গা অনেক ছিল। কিন্তু এখন এই প্রযুক্তির বিশ্বে তা অনেকটা অ্যানড্রয়েড ফোনের ১ জিবি মেমরি কার্ডের মত হয়ে গেছে। আপনি যদি জাস্ট সিনেমা দেখা বা ইন্টারনেট ব্রাউজ করার জন্য ল্যাপটপ নিতে চান তাহলে অন্তত ৫০০  গিগাবাইট স্টোরেজ আপনার লাগবেই। আর যদি ভিডিও এডিটিং বা ইউটিউব মার্কেটিং কিংবা গ্রাফিক ডিজাইন নিয়ে কাজ করে তাহলে নুন্যতম ১ টেরাবাইট স্টোরেজ তো চাই ই চাই।

অপারেটিং সিস্টেম

অনেকেই অল্প কিছু অর্থ সাশ্রয়ের জন্য প্রি-লোডেড অপারেটিং সিস্টেমনির্ভর ল্যাপটপ কেনেন না। কিন্তু নিজে থেকে ওএস এবং অন্যান্য সফটওয়্যার ইনস্টল করা কঠিন ও সময় সাপেক্ষ। ল্যাপটপ কেনার সময় আপনি যে অপারেটিং সিস্টেমে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন সেটি ইনস্টল করুন।

ল্যাপটপের আকার

যদি বাড়ি বা অফিসের জন্য ল্যাপটপ কেনার কথা ভাবেন তবে ল্যাপটপের আকার বড় হওয়া ভালো। এতে চোখের সুবিধা হবে এবং কাজের জন্য সুবিধা পাবেন। যদি কোনো প্রেজেন্টেশন দেওয়ার জন্য ল্যাপটপ কিনতে হয় তবে তা হালকা-পাতলা ও ছোট স্ক্রিনের হলে ভালো হয়।

কেমন কনফিগারেশন চাই

ভালো একটি ল্যাপটপে ইনটেল বা এএমডির মাল্টিকোর সিপিইউ থাকলে ভালো। ৩-৪ টি ইউএসবি পোর্ট এবং ল্যাপটপটি দ্রুতগতির কিনা তা দেখে নেওয়া বাঞ্চনীয়। সাধারণত উচ্চ রেজ্যুলেশনের গেম খেলা, ভিডিও সম্পাদনা এবং গ্রাফিকসের কাজের জন্য উচ্চ গতির ল্যাপটপ কেনা জরুরি। এ জন্য প্রসেসরের ক্লক স্পিড ৩.০ গিগাহার্টজ বা এর বেশি হলে ভালো হয়। প্রসেসর কোন সিরিজের (কোর আইথ্রি, ফাইভ, সেভেন) তা জেনে নেওয়াও জরুরি। কেনার আগে অবশ্যই গ্রাফিকস সক্ষমতা কেমন দেখে নেবেন। ভিডিও সম্পাদনা এবং গ্রাফিকসের কাজের জন্য কমপক্ষে ৮ গিগাবাইটের ডিডিআরথ্রি র্যাম হলে ভালো হবে।

ব্র্যান্ড নির্বাচনের পূর্বে

পুরোনো ল্যাপটপ কেনার সময় সতর্ক থাকুন। ওয়ারেন্টি দেখে নিন। পরিচিত ব্র্যান্ডের ওপর আস্থা রাখতে পারেন। ডিলার ও খুচরা বিক্রেতাদের কাছ থেকে ল্যাপটপ কেনার আগে তাদের বিক্রয় পরবর্তী সেবা ও অতীতে তাদের ল্যাপটপ বিক্রির রেকর্ড সম্পর্কে জানা থাকলে ভালো হবে। কেনার সময় অবশ্যই ওয়ারেন্টি কার্ড, চার্জার, ব্যাগ ইত্যাদি আনুষঙ্গিক জিনিসপত্র যা আপনার ল্যাপটপের সঙ্গেই পাচ্ছেন তা বুঝে নেবেন। এ ছাড়া সব সময় অনুমোদিত ডিলার, আমদানিকারক, বিশ্বস্ত মাধ্যম বা দোকান থেকে ল্যাপটপ কিনুন। তথ্যসুত্র ও ক্রেডিট: prothomalo.com

আমার মতে এই কয়টা বিষয় মাথায় রেখে যদি ল্যাপটপ কিনেন তাহলে আশা করা যায় আপনি ঠকবেন না। আর এর পরেও আপনার উপস্থিত জ্ঞান দ্বারা বিশ্লেষণ করবেন আপনি এই সময়ের জন্য বা আপনার উপযোগী কোন ল্যাপটপ টি কেনা উচিৎ। পোস্টটি কেমন লাগলো তা জানাবেন। আর এই পোস্ট সম্পর্কিত যেকোনো জানার থাকলে বা ল্যাপটপ কেনায় পরামর্শ লাগলে কমেন্টে জানাবেন।

উপরোক্ত বিষয়টি পছন্দ হলে লাইক দিন, উপকারী মনে হলে অন্যদের সাথে শেয়ার করুন।

comments

S.M. Sojib Ahmed

উপরোক্ত আর্টিকেলটি লিখেছেন | Email: smsojibahmed@gmail.com | Facebook: https://www.facebook.com/sojib.ahemed.5