স্মার্টফোনের ব্যাটারি লাইফ দিগুণ করুন ১০০% পরীক্ষিত ফ্রি উপায়ে

নিশ্চয় এই পোস্ট আপনি এখন পড়ছেন পিসিতে কিংবা স্মার্ট ফোনে। তাই আমি এক রকম নিশ্চিত হয়েই বলতে পারি নিশ্চয় আপনি একজন স্মার্ট ফোন ব্যবহারকারী। আচ্ছা আপনাকে যদি আমি প্রশ্ন করি যে স্মার্ট ফোন ব্যবহারে কোনটা সব চেয়ে বেশি প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে? চোখ বুঝে আপনি বলবেন স্মার্ট ফোনটি স্লো হয়ে যায় আর স্মার্টফোনের ব্যাটারি লাইফ খুব কম। চার্জ লাইফ কম থাকায় সব সময় পকেটে একটা পাওয়ার ব্যাংক নিয়ে ঘুরতে হয় কিংবা যারা আমার মতো পাওয়ার ব্যাংক ব্যবহার করেন না, তারা চার্জ শেষ হওয়ার ভয়ে কম করে স্মার্ট ফোনটি বাহিরে ব্যবহার করেন। আমি তো আবার দূরের যাত্রা পথে ফ্লাইট মুড করে রেখে চার্জ সেভ করি। কিন্তু এটা কোন সমাধান নয় আমার মতে। কত ইম্পরট্যান্ট কল ম্যাসেজ কিংবা অনলাইনে কাজ থাকে যা আমরা ফ্লাইট মুড করে রেখে বঞ্চিত হই। আবার বেশি বেশি পাওয়ার ব্যাংকের চার্জ ফোনে ব্যবহার করলে ফোনের ব্যাটারিতেও সমস্যা হয়। এমনকি এই এক্সট্রা পাওয়ার ব্যাংক বহন করাটাও প্যারা। যাইহোক, পাঠক নিশ্চয় বুঝতে পারছেন আজ আমি কি নিয়ে কথা বলবো। আজ আমি আপনাদের এমন একটা কৌশল জানাবো যা পরীক্ষায় ১০০% সফল হয়েই আপনাদের জানাচ্ছি। স্মার্ট ফোনের ব্যাটারি লাইফ দিগুণ করে তুলুন ফ্রিতে। অর্থাৎ আগে ১০০% চার্জ দিয়ে ফোন ৫ ঘন্টা চললে, আমার এই কৌশল ব্যবহারে কমপক্ষে ৯ ঘন্টা চলবেই। কি খুশি লাগছে এখন? চলুন তাহলে জেনে নিই বিস্তারিত।

কিভাবে চার্জ দিগুণ টেকশই হবে?

আপনি নিশ্চয় মনে মনে আমাকে প্রশ্ন করতে প্রস্তুত হচ্ছেন যে কিভাবে চার্জ দিগুণ হবে তাই তো? আপনি এটাও বলবেন যে আপনার 2500mAmp এর ব্যাটারি 5000mAmp কিভাবে সম্ভব হয়ে উঠা? আচ্ছা এতো ভাবনার কিছু নেই পাঠক। আমি পরিষ্কার করেই জানাচ্ছি যে আপনার 2500mAmp এর ব্যাটারি কখনয় 5000mAmp হয়ে যাবে তা বলিনি। আমি বলছি আপনার ব্যাটারির টেকশই অর্থাৎ চার্জ এর লাইফ টাইম বেড়ে যাবে। কিভাবে আর কেন বাড়বে এই লাইফ টাইম তাই তো?

wire coating

বর্তমান সময়ের সকল ফোন একটি মাত্র সার্কিট বোর্ডের উপর গঠিত যেখানে সকল ছোট ছোট কম্পোনেন্ট (জিপিইউ, RAM, প্রসেসর ইত্যাদি ) সিরিজে একটির সাথে আরেকটি যুক্ত থাকে। এর কারণ হলো এই প্রতিযোগীতার সময়ের সকল মোবাইল নির্মাতা কম্পানি গুলোর লক্ষ্য থাকে ফোন গুলো খুব হাল্কা, স্লিম করে উৎপাদন করা। যার ফলে বর্তমান সময়ের সকল ফোন গুলো একটি মাত্র সার্কিট বোর্ডের উপর তৈরি হচ্ছে। আবার কম ওজন ও স্লিম মোবাইল বানাতে এই কম্পোনেন্ট গুলোর কানেক্টিং করার ক্ষেত্রে ওয়্যার সমূহকে হাল্কা করে ইনসুলেশন করে দেয়া হয়। যার ফলে নাম মাত্র ইনসুলেট করা ওয়্যার ব্যবহার হয় স্মার্ট ফোন গুলোতে। কিন্তু আমরা যারা বিজ্ঞান বিভাগে পড়েছি কিংবা যারা ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ি তারা জানি যে কোন তারের মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহিত করা হলে এটি এর চারিপাশে ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ফিল্ড গঠন করে গমন করে। অর্থাৎ ∈=-N×ΔΦ/Δt

EMF law

এই কারণে বৈদ্যুতিক তার গুলোতে শক প্রতিরোধী কোটিং দেয়ার পাশাপাশি মোটা করে কয়েক স্তরের কোটিং দেয়া থাকে যেন এই ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ফিল্ড সমূহ আশেপাশের কোন ডিভাইস কে প্রভাবিত না করতে পারে বা অতিরিক্ত ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ফিল্ড বিচ্ছুরণ করে পাওয়ার অপচয় করতে না পারে। কিন্তু মোবাইল ফোন নির্মাতা কোম্পানি গুলো ওয়েট কমাতে ও স্লিম করতে এই নীতি তোয়াক্কা করে না। ফলে আমরা আমাদের মোবাইল ফোনের ব্যাটারিকে ১০০% চার্জ দিলেও এর সুবিধা ৫০ -৬০% পেয়ে থাকি। শক প্রতিরোধী হাল্কা ইনসুলেশন থাকায় এবং মোটা কোটিং না দেয়ায় স্মার্ট ফোন গুলো থেকে চার্জ অপচয় হচ্ছে। আপনার ফোন থেকে ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ফিল্ডের মাধ্যমে পাওয়ার অপচয় হচ্ছে কি না তা বুঝার সহজ একটা উদাহরণ বলছি। আপনার ফোন টি যখন খুব ব্যাবহার করতে থাকেন তখন নিশ্চয় এটি বেশ গরম হয়ে উঠে? এখন এই বেশি ব্যবহারের ফলে বুঝতেই পারছেন ওয়্যার দ্বারা প্রচুর বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়েছে এবং আরো বিদ্যুৎ প্রবাহিত হচ্ছে কারেন্ট কাজ গুলো করার জন্য। সেই মুহূর্তে মোবাইল ফোনটিকে শরীরের লোমের আশে পাশে খুব কাছে আলতো করে ছোঁয়া ছোঁয়া অবস্থায় ধরুন। কিছু বুঝলেন? লোম গুলো দাঁড়িয়ে যাচ্ছে তাইতো? এটাই ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ফিল্ড।

bettery increase

যেহেতু স্মার্ট ফোন থেকে ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক উপায়ে পাওয়ার লস যাচ্ছে কোটেশনের অভাবে,সেহেতু আমি এই পোস্টে এই ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ফিল্ডকে একটি বাহ্যিক কোটেশন দেয়ার মাধ্যমে কমপ্রেস করে পাওয়ার লস কমাবো এবং তা পূর্ণ কাজে লাগিয়ে স্মার্ট ফোনে ব্যবহার করবো।

উপকরণ

উপকরন

  • হোয়াইট টেপ
  • কেঁচি
  • টিনের ফয়েল
  • মেজারিং স্কেল
  • সাদা অফসেট কাগজ
  • মোবাইল ব্যাক কাভার

সব উপকরণ আপনার স্থানীয় বাজারেই পাওয়া যাবে।

বেজ তৈরি

বেজ মেকিং

আপনার মোবাইলের ব্যাক কাভারের ভেতরের মাপ নিয়ে তা সাদা অফসেট কাগজে চিহ্নিত করতে হবে। ক্যামেরা, ফ্ল্যাশ, স্পিকার অংশটি কেটে সাইজ করুন যেন দেখতে সুন্দর লাগে। সাদা কাগজে যেভাবে মাপ দিয়েছেন কাভারের মাপ অনুসারে সেভাবে কেটে ভেতরের অংশটি বানিয়ে ফেলুন।

টিনের ফয়েল কাটা

ফয়েল কাটা

মেজারিং স্কেল/টেপ নিয়ে বেজের প্রস্থ মেপে নিতে হবে। টিনের ফয়েল পেপারটি সেই বেজের প্রস্থের মাপে কেটে নিতে হবে। এখন এই বেজের মাপের ফয়েলটিকে হাফ ইঞ্চি করে কেটে নিতে হবে। আমার ৮টি হাফ ইঞ্চির টুকরো হয়েছে। আপনারটি আপনার মোবাইলের ব্যাক কাভারের বেজের উপর নির্ভর করবে কয়টি টুকরো হবে। তবে যত টুকরোই হোক সমস্যা নেই, শুধু খেয়াল রাখতে হবে যেন টুকরো গুলো হাফ ইঞ্চির চওড়া হয় আর লম্বায় বেজের প্রস্থের সমান হয়। আর ক্যামেরার সাইড গুলো সাধারণত একটু ছোট ছোট টুকরো হয়। আপনি আপনার মাপ মত করে নিবেন।

বেজে ফয়েল স্থাপন

বেজে ফয়েল স্থাপন

এখন অফসেট কাগজের বেজটিতে ফয়েল পেপার বসাতে হবে। ফয়েল পেপার এমন ভাবে বসাতে হবে যেন ফয়েল পেপার মোবাইলের ব্যাক কাভারের দুই সাইডেও ঘিরে রাখে। এখন আপনাকে একটা একটা করে ফয়েল পেপারের টুকরো বেজে হোয়াইট টেপ দ্বারা আটকিয়ে দিতে হবে। আর হ্যাঁ, মনে রাখবেন একটা ফয়েল পেপারের টুকরো যেন আরেকটি ফয়েল পেপারের টকরোকে টাচ না করে। এই ক্ষেত্রে আপনি ফয়েল পেপারের ধার ঘেসে ঘেসে হোয়াইট টেপ লাগাবেন যেন টেপের হাফ অংশ ফয়েলের উপর আর হাফ অংশ বেজে লেগে থাকে। তাহলে আপনি খুব সহজেই ফয়েল পেপার গুলো লাগাতে পারবেন এবং এতে একটার সাথে আরেকটা টাচ খেলেও সমস্যা নাই কেননা দুটি ফয়েল কে হোয়াইট টেপ দ্বারা সেপারেট করা থাকবে।

ফলাফল পর্যবেক্ষণ

কাভারে বেজ স্থাপন

উপরের কাজ গুলো ঠিক মত করা হয়ে গেলেই আপনার ব্যবহারের জন্য এটি সম্পূর্ণ প্রস্তুত। বেজটিকে উল্টো করে মোবাইলের কাভারে সেট করুন। এখন এটিকে ব্যবহার না করে আপনার মোবাইলের সেটিংসে গিয়ে ব্যাটারি অংশে দেখুন ১০০% চার্জ থাকা অবস্থায় কতক্ষতণ লাইফ টাইম দেখাচ্ছে। এইবার কিছুক্ষণ নরমাল ভাবে মোবাইল ব্যবহার করুন। চার্জ কমে আসলে এখন ফয়েল দ্বারা বানানো মোবাইল ব্যাক কাভারটিতে মোবাইলটি যত্ন সহকারে স্থাপন করুন এবং চার্জ দিন। ফুল চার্জ হলে এইবার আবার সেটিংসে গিয়ে চার্জ এর লাইফ টাইম দেখুন। কি অবাক হচ্ছেন? আমি সিওর আপনি অবাক হচ্ছেন আগের চেয়ে বেশি লাইফ টাইম দেখে। বেজ আমার বর্ণনা মতে এবং বেজটি মোবাইল ব্যাক কাভারে সঠিক ভাবে বসালে অবশ্যই আপনি সফল রেজাল্ট পাবেন। আমি নিজে পরীক্ষা করেছি।

ব্যাটারি চেকিং

পাঠক, এই ছিলো আজকে আপনাদের সাথে একটা অসাধারণ গুরুত্বপূর্ণ আমার টিপস শেয়ার। যদি ভালো লাগে কিংবা আপনি বানিয়ে উপকৃত হলে জানাবেন। আর বানাতে সমস্যা হইলে অবশ্যই কমেন্টে বলবেন। আমি সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবো ইনশাআল্লাহ্‌।

উপরোক্ত বিষয়টি পছন্দ হলে লাইক দিন, উপকারী মনে হলে অন্যদের সাথে শেয়ার করুন।

comments

S.M. Sojib Ahmed

উপরোক্ত আর্টিকেলটি লিখেছেন | Email: smsojibahmed@gmail.com | Facebook: https://www.facebook.com/sojib.ahemed.5