CPU কি | সিপিইউ এর প্রসেসিং স্পিড ফ্রি’তে যেভাবে দ্বিগুণ করবেন

CPU (central processing unit) আমাদের সবারই বহুল পরিচিত একটি নাম। নামেই বুঝা যায় এর কাজ কি। অফিস আদালতের যেমন হেড অফিস থাকে তেমনি কম্পিউটারের সকল কাজ গুলোকে নিয়ন্ত্রণের একটি কেন্দ্রীয় প্রক্রিয়াকরণ অংশ থাকে যাকে বলা হয় সিপিউ। মূলত কম্পিউটার বলতে বস্তুগত দিক থেকে সিপিউ অংশকেই বেশি বুঝায়। সিপিউ যেহেতু সকল কাজের মূলে অবস্থান করে সেহেতু এর দক্ষতা যথেষ্ট হাই লেভেলের হওয়া উচিৎ। সিপিউ এর দক্ষতা আমরা সাধারণত এর কাজ প্রক্রিয়া করার গতির উপর নির্ধারণ করে থাকি। সুতরাং ভালো মানের সিপিউ বলতে আমরা উচ্চ গতির সিপিউ’কে বলি। তাছাড়া বর্তমানে বাজারে বা অনলাইনে যে সকল প্রোগ্রাম / সফটওয়্যার পাওয়া যায় তার সব অধিকাংশই উন্নত হাই লেভেলের। তাই উচ্চ গতি থাকাটা অতি জরুরী ভালো মানের কাজের আউটপুট পেতে। তবে আমাদের এটাও মাথায় রাখতে হবে যে উচ্চ গতির সিপিউ এর মূল্য বেশ বেশি। পাঠক, আজ আমি আপনাদের এমন কৌশল জানাবো যার মাধ্যমে আপনি খুব সহজেই আপনার ডিফল্ট ভাবে থাকা সিপিউ এর স্পিডকে দ্বিগুণ করে নিতে পারবেন তাও আবার একদম ফ্রিতে! কি বিশ্বাস হচ্ছেনা? তাহলে একবার আমার এই কৌশল ট্রাই করেই দেখুন।

সিপিউ এর সকল কোর এক্টিভ করা

আমরা অনেকেই হয়তো জানিনা যে আমাদের CPU কোর মাল্টি কোর হলেও, এর মাত্র ৮টি কোর সিপিউ ব্যবহার করে। আসলে সিপিউ ভবিষ্যতের কথা ভেবে তার কোর গুলোকে দুই ভাগে ভাগ করে রাখে। ওয়ার্কিং কোর ৮টি আর ব্যাকআপ কোর ৮ টি এই নিয়মে সিপিউ তার কোর গুলোকে ভাগ করে রাখে। অর্থাৎ আমাদের অধিকাংশ সিপিউ এর মোট কোর সংখ্যা ১৬টি। ওয়ার্কিং কোরের যদি কখনো কাজ করতে করতে ৮টি কোরের কোনটি ফেল করে বা ডিজেবল হয়ে যায় তাহলে সিপিউ তার ব্যাকআপ কোর থেকে সেই অভাব পুরণ করে।

বিশেষজ্ঞদের মতে সিপিউ তার অতি কাজের চাপে সর্বচ্চো ৫ টি কোর ডিজেবল হয়ে যেতে পারে বা ফেল করতে পারে আর তখন ব্যাকআপ কোর গুলোকে কাজে লাগিয়ে কাজ সম্পন্ন করে। কিন্তু মজার বিষয় হলো ব্যাকআপ ৫ টি কোর কাজে যোগ দিলেও বাকি ৩টি কোর তখনো অলস হয়ে পরে থাকে। ফলে স্বাভাবিক ভাবেই বলতে পারি এটা কোরের কাজের অপচয়।

আবার আমরা যদি ১৬টি কোরকেই একই সাথে কাজে লাগাতে পারি তাহলে ওয়ার্কিং কোরের উপরে চাপ কম হয়ে যাবে এবং সেই সাথে সকল কোর কাজ ভাগ করে নিয়ে খুব সহজেই সিপিউ এর কাজ গুলো সম্পন্ন করতে পারে। এই ক্ষেত্রে আমি সব গুলো কোরকেই ব্যবহার করতে পরামর্শ দিবো। এখন প্রশ্ন করতে পারেন যে যদি কোন কোর ফেল/ ডিজেবল হয়ে যায় তাহলে কি হবে? দেখুন ডিফল্ট ভাবেই আপনি ৮টি কোর নিয়ে কাজ করছিলেন আর এখন যদি ১৬টি কোর নিয়ে কাজ করেন তাহলে যদি কোন কোর ফেল করে/ ডিজেবল হয় তাতেও সমস্যা নাই।

কারণ আপনার সিপিউকে কমপক্ষে ৮টি কোর দ্বারা চালানোর প্রোগ্রাম করা আছে। ফলে দুইটা বা তিনটা কোর যদি ডিজেবল/ফেল করে ১৬টি কোর থেকে তারপরেও আপনি ভালো স্পিড পাবেন কারণ তখনো আপনি ১৩টি কোর ব্যবহার করতে পারছেন আগের চেয়ে। তাই আমি বলবো আপনার সিপিউ এর ব্যাকআপ কোর শুধু শুধু অলস ফেলে রাখবেন না বরং কাজে লাগান এতে ডিফল্ট কোর গুলোর উপরেও চাপ কমবে সেই সাথে আপনার সিপিউ এর কাজের স্পিডও বাড়বে। আর ভয়ের কিছু নেই কারণ এতে আপনার সিপিউ এর কোন ক্ষতির সম্ভাবনা নাই।

যেভাবে ব্যাকআপ কোর গুলোকে অ্যাক্টিভ করবেন

select core

আপনি উইন্ডোজ ভিস্তা, সেভেন, এইট, টেন যেটাই ব্যবহার করুন, সব গুলোর সেটিংস একই। windows+r চেপে রান উইন্ডোটি বের করুন। তারপর রান এর বক্সে লিখুন msconfig তারপর আপনি একটি মেন্যু পাবেন। মেন্যুতে থাকা boot অপশনে প্রবেশ করুন। কোন কিছুতে ক্লিক করবেন না এই মেনুর, কারণ আপনার ভুল ক্লিকে বুট করায় সমস্যা হতে পারে। শুধু advance options এ ক্লিক করুন।

এখন আপনি দেখতে পাবেন number of processors অপশন রয়েছে তাতে ক্লিক করে সিলেক্ট করে দিন আপনার সর্বচ্চো প্রসেসর কোর সংখ্যাটি (বিঃদ্রঃ প্রসেসর মডেলের উপর নির্ভর করে কোর সংখ্যা। কোর সংখ্যা ৪-১৬ পর্যন্ত বর্তমানে পাওয়া যায়, আপনার কোর সংখাটি দেখে নিন এখানে ক্লিক করার পর সার্চ করে)। ok করে দেয়ার পর আপনার পিসিটি রিস্টার্ট চাইবে। আপনি রিস্টার্ট না দিয়ে exit without restart করে বের হয়ে আসুন। রিস্টার্ট দিতে বলছি না এখন কারণ আমরা আগে দেখবো বর্তমানে কি পরিমাণ প্রসেস করতে পারছে প্রসেসর আর রিস্টার্ট দেয়ার পর সব কোর কাজে লাগিয়ে কি পরিমাণ কাজে লাগাতে পারছে তা নিরুপন করার জন্য।

কোর এর কাজ মনিটরিং

backup core using

কোর সেট তো করা হলো। এইবার কিভাবে চেক করবেন বর্তমানে পিসির কোর কেমন কাজ করছেন তাই তো? আচ্ছা ভাবনার কিছু নেই। স্টার্ট মেন্যুতে গিয়ে all program এ দেখুন windows administrative tools, এখানে প্রবেশ করে performance monitor এ ক্লিক করে more অপশনে যেয়ে run as administrator করুন। performance monitor মেন্যুতে এখন data collector এ user defined অংশে ক্লিক করুন।

এখন পাশের ফাঁকা অংশে মাউসের রাইট বাটন ক্লিক করে new > data collector set করে cpu নাম দিয়ে create manually সিলেক্ট দিয়ে প্রবেশ করুন। create data logs অংশে performance counter চিহ্নিত করে নেক্সট করুন। এই মেন্যুতে নেক্সট না করে add অপশনে ক্লিক করে প্রবেশ করুন। মেন্যুতে দেখতে পাবেন processor লিখা আছে তাতে ক্লিক করে নিচের মেন্যুতে সিলেক্ট করে দিন সর্বচ্চো সংখ্যাটি এবং add করে দিন।

এখন আবার উপরের মেন্যুতে ফিরে গিয়ে process এ ক্লিক করে এক্সপেন্ড করে thread count এ ক্লিক করুন তারপর add করে দিন। এখন ok তারপর next করে করে ফিনিশ করে দিন। এই কাজ গুলো করার ফলে আপনার পিসির সিপিউ অনুমতি পেয়ে গেলো সব গুলো কোরকে কাজে লাগিয়ে কাজ করার। এখন দেখার বিষয় কি পরিমাণ ফাস্ট হয়েছে পিসির সিপিউ।

মনিটরিং

core monitoring

আপনার কোরের কাজ পর্যবেক্ষণ করতে Geekbench3 ডাউনলোড করে নিন। এখন টেস্ট করে দেখুন আপনার কোর এর কাজের স্পিড। এটা অবশ্যই রিস্টার্ট করার আগে চেক করে নিবেন। দেখে রাখুন কি রেজাল্ট হলো। এবার পিসি রিস্টার্ট করে আবার চেক করে দেখুন কি পরিমাণ কোর কাজের স্পিড পেয়েছে। নিশ্চিত করে বলতে পারি আপনি কাজের স্পিড দেখে অবাক হবেন।

পাঠক এই ছিলো আজকের পোস্ট। আপনার পুরাতন কিংবা নতুন যে কোন প্রসেসরের জন্যই এই ট্রিক্সটা কার্যকরী। তবে মনে রাখবেন একেক কোরের জন্য একেক রকম কোর সংখ্যা থাকে। আমার কোর আই সেভেন হওয়ায় কোর সংখ্যা ১৬ পেয়েছি। ডুয়েল কোর/ কোর টু ডুয়ো ৪ টি কোর থাকবে। কোর আই থ্রি এর জন্যও ৪ টি। কোর আই ফাইভের জন্য ৬ টি কোর দেখাতে পারে। আপনার কোরের সংখ্যা দেখতে ark.intel.com এ গিয়ে সার্চ করে দেখুন। আজকের পোস্ট টি কেমন লেগেছে বা আপনার কোন মতামত থাকলে কিংবা এই কাজটি করতে সমস্যা হলে কমেন্টে জানাবেন।

উপরোক্ত বিষয়টি পছন্দ হলে লাইক দিন, উপকারী মনে হলে অন্যদের সাথে শেয়ার করুন।

comments

S.M. Sojib Ahmed

উপরোক্ত আর্টিকেলটি লিখেছেন | Email: smsojibahmed@gmail.com | Facebook: https://www.facebook.com/sojib.ahemed.5