কিভাবে উইন্ডোজ ৭, ৮ বা ১০ সেটআপ দিতে হয় | উইন্ডোজ ১০ ব্যবহারের ৭ কারণ

কম্পিউটার অপারেটিং সিস্টেম বা OS হলো কম্পিউটারের হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার সম্পদ বা রিসোর্স ব্যবস্থাপনাকারী কতগুলি কম্পিউটার প্রোগ্রামের সমষ্টি। কম্পিউটারে দেয়া ব্যবহারকারীর ইনপুট নির্দেশনা অনুযায়ী কম্পিউটারে থাকা প্রোগ্রাম/ সফটওয়্যার গুলোকে কাজে লাগানোর মাধ্যমে কাজের সমন্বয়কারী হিসেবে অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার হয়। বর্তমান সময়ে কম্পিউটার জগতে বিভিন্ন ধরণের অপারেটিং সিস্টেম চালু রয়েছে। উইন্ডোজ, লিনাক্স, ইউনিক্স, MAC OS ও অ্যানড্রয়েড প্রচলিত কয়েকটি অপারেটিং সিস্টেম। তবে আজ আমি এখানে মাইক্রোসফটের উইন্ডোজ-১০ অপারেটিং সিস্টেম নিয়ে কিছু তথ্য তুলে ধরব। আর আপনাদের বুঝাবো ঠিক কি কারণে অন্যান্য অপারেটিং সিস্টেম গুলো থেকে উইন্ডোজ-১০ এত আলাদা এবং কেন এই অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করবেন। তাহলে চলুন দেখে নেয়া যাক যে ৭ টি কারণে আপনি উইন্ডোজ-১০ ব্যাবহার করবেন।

ফ্রি আপগ্রেড

উইন্ডোজ-১০ এখন পর্যন্ত ফ্রী আপগ্রেড করার সুবিধা সংবলিত আছে। অর্থাৎ যারা আগে উইন্ডোজ-৭ কিংবা উইন্ডোজ-৮/৮.১ ব্যাবহার করতেন তারা চাইলেই ফ্রী আপগ্রেড করে নিতে পারেন উইন্ডোজ এক্সেসিবিলিটি থেকে। তাছাড়া এটাও বুঝার বিষয় যে উইন্ডোজ-১০ হলো সর্বশেষ উইন্ডোজ ভার্সন অর্থাৎ এর পরে আর কোন উইন্ডোজ ক্যাটাগরির অপারেটিং সিস্টেম বের হবেনা মাইক্রোসফট কোম্পানি তা ঘোষণা দিয়েছে। আগে যেমন প্রায় প্রতিবছর উইন্ডোজ এর নতুন ভার্সন বের হতো তেমনটা আর হবে না।

তবে মজার বিষয় হলো উইন্ডোজ-১০ এর ফিচার, এপস ও অন্যান্য সুবিধা গুলো ক্রমান্বয়ে আপডেট হতে থাকবে প্রতি ৬ মাস পর পর। আসলে উইন্ডোজ-১০ একটি কমপ্লিট অপারেটিং সিস্টেম তাই একে আর আপগ্রেড করার প্রয়োজন মনে করছেনা মাইক্রোসফট কর্পোরেশন। তবে প্রতি ৬ মাস পর পর যে আপডেট হবে উইন্ডোজ-১০ তাতে ২/৩ বছর পর দেখলে বুঝা যাবে যে শুরুর উইন্ডোজ-১০ আর ২/৩ বছর পর আপডেট হওয়া উইন্ডোজ-১০ বিশাল আপডেটেট। বলতে গেলে আপগ্রেড হওয়ার মতই শুধু নামটা সেই আগের উইন্ডোজ-১০ টাই থেকে যাবে।

সিকিউরিটি

উইন্ডোজ-১০ ব্যাবহার করার দ্বিতীয় বিশেষ কারণ হলো এর সিকিউরিটি। এটা সবাইকে স্বীকার করতেই হবে যে উইন্ডোজ-১০ এর সিকিউরিটি সিস্টেম অন্যান্য সকল উইন্ডোজ ভার্সন গুলো থেকে অনেক ভালো। এর নিজস্ব ডিফেন্ডার রয়েছে। এই অপারেটিং সিস্টেমে আগের সব সিকিউরিটি সিস্টেম গুলোর ফিচারের সাথে আরো বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অপশন যোগ করা হয়েছে। এর ডিফেন্ডার অত্যন্ত শক্তিশালী হওয়াই কাস্টম ভাবে antivirus না দিলেও চলে। আর তাছাড়া আগেই বলেছি যে উইন্ডোজ-১০ একটি ধারাবাহিক অপারেটিং সিস্টেম যার মানে হলো মাইক্রোসফট এটা নিয়ে নিয়মিত রিসার্চ চালু রেখেছে । এই কারণে হ্যাকার কিংবা অন্যান্য বিষয় গুলো যেগুলো সিকিউরিটির জন্য হুমকি স্বরূপ সেগুলো তেমন কিছুই করতে পারবেনা বলেই বিশ্বাস মাইক্রোসফটের।

হেল্প সাপোর্ট

উইন্ডোজ-১০ ব্যাবহার করার জন্য তৃতীয় কারণ হলো হেল্প সাপোর্ট এক্সপায়ারিং ডেট। অর্থাৎ উইন্ডোজ-১০ এর হেল্প সাপোর্ট অন্যান্য ভার্সন গুলোর চেয়ে বেশি। হেল্প সাপোর্ট যদি না থাকে তাহলে আপনার কম্পিউটারের যেকোনো উইন্ডোজ সংবলিত সমস্যার জন্য মাইক্রোসফট দায়ী থাকবে না। এমনকি ভাইরাস প্রোটেকশন, হ্যাকিং প্রোটেকশন কিংবা আপডেটেট ফিচার থেকেও বঞ্চিত হবেন। যার ফলে হঠাত কোন একদিন হয়তো কম্পিউটার এর সমস্যার কারণে বলেই ফেলবেন “ওপস! এ কেমন বিচার?” । তাই সময় থাকতে আপনার ফাইল/ ডকুমেন্টের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উইন্ডোজ আপগ্রেড করে ১০ এ চলে আসুন।

অস্থির গেমিং এক্সপেরিয়েন্স

এখন যে সুবিধাটা বলবো সেটা শুনে হয়তো আমার গেমার বন্ধুরা খুশিতে আটখানা হয়ে যাবেন। উইন্ডোজ-১০ অপারেটিং সিস্টেম কোন প্রকার ঝামেলা ছাড়াই সরাসরি ডাইরেক্ট এক্স-১২ সাপোর্ট করে! ডাইরেক্ট এক্স-১২ এর প্রয়োজনীয়তা একমাত্র গেমার বন্ধুরাই বুঝবে। ডাইরেক্ট এক্স সফটওয়্যার আপনার গেমের ভিজুয়াল গ্রাফিক্সের সাথে আপনার কম্পিউটার হার্ডওয়্যারের সামঞ্জস্যতা রক্ষা করে বেস্ট কোয়ালিটির গেম খেলার স্বাদ উপহার দেয়। অর্থাৎ বুঝতেই পারছেন আপগ্রেডেড ডাইরেক্ট এক্স ভার্সন মানেই আরো বেশ কিছু উন্নত ফিচার সংবলিত ভিজুয়াল গেমিং সফটওয়্যার। যার ফলে আপনি অবশ্যই বেস্ট কোয়ালিটির গেম , গ্রাফিক্স, সাউন্ড, রিয়্যালিটি উপভোগ করতে পারবেন।

আরো পড়ুন: আপনার পাসওয়ার্ড কতটা নিরাপদ? কিভাবে পাসওয়ার্ড হ্যাক হয় জেনে নিন

এক্স-বক্স

এক্স-বক্স। উইন্ডোজ-১০ এর রয়েছে এক্স-বক্স নামক এপস সিস্টেম। মাইক্রোসফট উইন্ডোজ-১০ ব্যবহার হয় এমন সকল ডিভাইসের জন্য রয়েছে এই অ্যাপস ভান্ডার। এখান থেকে আপনি গেম, কিছু শর্টকাট সফটওয়্যার এবং কিছু মজার মজার ফিচার ইন্সটল করে ব্যাবহার করতে পারেন ঠিক যেমনটা গুগল প্লে স্টোর থেকে আমরা করে থাকি। প্লে স্টোরের অনেক মজার ছোট ছোট গেম / অ্যাপসগুলোও এখানে পাওয়া যাবে।

বছরে ২ বার আপডেট

উইন্ডোজ-১০ প্রতি ৬ মাসে বিশেষ বিশেষ ভাবে আপডেট হয়। যা আগের অন্যান্য অপারেটিং সিস্টেম গুলোতে প্রতি বছর হত। অর্থাৎ প্রতি ৬ মাস পর পর আপনি আপনার কম্পিউটারকে একটি নতুন পিসির মতই চালাতে পারবেন নতুন নতুন ফিচার দিয়ে। এতে নতুন ফিচার গুলো মাইক্রোসফটের দেয়া কথা মতে নিয়োমিতই রিসার্চ করে আরো উন্নত করা হচ্ছে। তারা আপডেট গুলোকে অর্ধ বার্ষিকী , বার্ষিকী এবং ক্রিয়েটরস আপডেট আকারে আপডেট করছে। এতে কিছু বিশেষ ফ্রী ফিচার রয়েছে যা নিয়মিতই আপডেট হচ্ছে যেমন স্টোরি রিম্যাক্স। স্টোরি রিম্যাক্স দ্বারা আপনি ভিডিও এডিটিং খুব সহজেই করে বিভিন্ন মজার মজার ইফেক্ট সংযুক্ত করতে পারেন।

win10 sound effect

আবার স্পেশাল সাউন্ড ইফেক্ট এর জন্যও রয়েছে একটি স্পেশাল সাউন্ড ফিচার যা দ্বারা আপনি গেম খেলা কিংবা 3D মুভি দেখার পূর্ণ স্বাদ নিতে পারেন হেড ফোন লাগিয়ে।

ইউজার ফ্রেন্ডলি

কারণটা  আপনারা সবাই আমার সাথে এক মত হবেন যে উইন্ডোজ-১০ এর অসাধারণ প্রচুর ফিচার রয়েছে। উল্লেখযোগ্য গুলোর মধ্যে ভয়েস সনাক্তকরার ফিচার। ভয়েস সনাক্ত করার ফিচার থেকে আপনি আপনার কম্পিউটারকে প্রশিক্ষণ দেয়াতে পারেন নির্দেশনা পালন করাতে। এছাড়া এর স্টার্ট মেনু টা অবশ্যই উইন্ডোজ-৮ এর থেকে সেরা। এর নাইট লাইট পাওয়ার সেভার রয়েছে যা আপনার চোখকে ব্লু-রে থেকে রক্ষা করবে। রয়েছে অসধারণ নোটিফিকেশন বার। টাস্ক ম্যানেজারটাও অনেক আপডেটেড। প্রথমবারের মত টাস্ক ম্যানেজারে জিপিইউ ব্যাবহার হয়েছে। এছাড়া এক্সপ্লোরার সহ আরো গোপন কিছু মজার মজার ফিচার তো রয়েছেই যা সকল ব্যাবহারকারীকেই আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছে। সবচেয়ে বিশেষ দিক হলো এটা আগের যে কোন অপারেটিং সিস্টেম থেকে বেশি ইউজার ফ্রেন্ডলি।

কিভাবে উইন্ডোজ ইনস্টল করব

উইন্ডোজ ৭, ভিসতা, ৮ কিংবা ১০ সবার জন্যই ইনস্টলেশন সিস্টেম একই। তাই এই ব্লগপোস্টে আমি ব্যাখ্যা করেছি কিভাবে উইন্ডোজ ১০ এর সর্বশেষ আপডেট সেটআপ দিবেন। যেকোন কম্পিউটার বা ল্যাপটপের ক্ষেত্রেই একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে। উইন্ডোজ ১০ এর সর্বশেষ ভার্সন ডাউনলোড করতে চাইলে নিচের লিংকে ক্লিক করুন।

Download Windows 10

আপনার কাছে উইন্ডোজ ৭, ৮ বা ১০ এর ডিভিডি বা পেনড্রাইভ থেকে থাকে তাহলে উক্ত লিংক থেকে নতুন করে আর ডাউনলোড না করলেই চলবে। কিভাবে উইন্ডোজ সেটআপ দিবেন তা স্টেপ বাই স্টেপ নিচের ভিডিওতে দেখানো হয়েছে।

আপনি যদি অলরেডি ভিডিওটি উইটিউবে দেখে থাকেন তাহলে নতুন করে না দেখে সোজা নিচে চলে যান।

উইন্ডোজ ইনস্টল করা হয়ে গেলে এবার অ্যাক্টিভেট করার পালা। প্রথমেই অ্যাক্টিভেটর ডাউনলোড করে নিন।

Download Now

একা একা অ্যাক্টিভেট করতে পারছেন না? তাহলে কিভাবে অ্যাক্টিভেট করবেন তা জানতে নিচের ভিডিওটি দেখুন।


এইসব কারণ ছাড়াও আরো অনেক কারনেই আমার মতে আপনাকে পুরাতন অপারেটিং সিস্টেম ছেড়ে উইন্ডোজ-১০ এ আপগ্রেড হওয়া উচিত। আবার বর্তমানে অনেকেই একটা সমস্যা ফেস করছেন যে উইন্ডোজ-৭/৮ এ অনেক সফটওয়্যারই কাজ করছেনা বা ইন্সটল নিতে সমস্যা করছে। কারণ মাইক্রোসফট কর্পোরেশন তাদের সফটওয়্যার গুলোকে আপগ্রেড ভার্সনের জন্য আপগ্রেড করা শুরু করেছে। পরিশেষে এটাই বলবো যে, যদি আপনার ডিভাইসটিকে নিরাপদ আর সফটলি অপারেট করতে চান তাহলে উইন্ডোজ-১০ ই সেরা। আর উইন্ডোজ-১০ সকল কম্পিউটারেই ইউজার ফ্রেন্ডলি।

উপরোক্ত বিষয়টি পছন্দ হলে লাইক দিন, উপকারী মনে হলে অন্যদের সাথে শেয়ার করুন।

comments

Admin

উপরোক্ত আর্টিকেলটি লিখেছেন | Email: admin@banglacourse.com | Facebook: www.facebook.com/BanglaCourse