কম্পিউটারকে ভাইরাস মুক্ত করার উপায় খুঁজছেন? তাহলে জলদি জেনে নিন

আপনার কি কখনো মনে হয়েছে যে আপনার কম্পিউটারটি হঠাতই স্লো হয়ে গেছে কিংবা উদ্ভট আচরণ করছে? তাহলে পিসিকে ভাইরাস মুক্ত করার উপায় জানা আপনার জন্য যায়েজ হয়ে গেছে। আবার সময়ে অসময়ে হঠাতই কিছু অদ্ভুত পপ-আপ মেনু প্রদর্শন করছে? যদি এমনটা হয়ে থাকে তাহলে নিশ্চিত থাকুন আপনার কম্পিউটারটি ভাইরাস/  ম্যালওয়্যার/  স্পাইওয়্যার বা অন্য অপ্রীতিকর প্রোগ্রাম দ্বারা আক্রান্ত হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে হার্ডওয়্যার এর সমস্যা হলেও এমনটা হয় তবে সাধারণত এমন সমস্যাগুলোই ক্ষতিকর ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হওয়ার প্রাথমিক লক্ষণ। এমনকি আপনার কম্পিউটারে অ্যান্টিভাইরাস দেয়া থাকলেও সিস্টেম ত্রুটির কারণেও নানা সমস্যা দেখা দিতেে পারে।

 

আজ আমি আপনাদের সবচেয়ে সহজ উপায় জানাব, কিভাবে আপনার কম্পিউটার থেকে ভাইরাস বা ম্যালওয়্যার সহজেই দূর করবেন।

১ম ধাপ

প্রথমেই দ্রুত আপনার ইন্টারনেট সংযোগটি অফ করে রাখতে হবে যতক্ষণ পর্যন্ত আপনার কম্পিউটার ভাইরাস মুক্ত হচ্ছে। এতে আপনার প্রয়োজনীয় ফাইল/ ডকুমেন্ট অনলাইনের মাধ্যমে ছড়িয়ে যাওয়া থেকে নিরাপদ থাকবে।

এখন যদি সন্দেহ করেন যে আপনার কম্পিউটারটি ম্যালওয়্যার দ্বারা আক্রান্ত হয়েই আছে তাহলে আপনার কম্পিউটারটিকে সেফ মোডে চালু করেন। সেফ মোড সাধারণত প্রয়োজনীয় হালকা প্রোগ্রাম ছাড়া অন্য ভারী প্রোগ্রাম গুলো রান করে না। যদি কোন ম্যালওয়্যার আপনার পিসিতে ঢুকার চেষ্টা করে তাহলে সেফ মোড তা প্রতিরোধ করবে। কিন্তু আপনার প্রয়োজনীয় ফাইলগুলো আগের মতই স্থানান্তর করতে পারবেন। তবে এখানে আরেকটি বিষয় হচ্ছে যে সেফ মোড অপশন শুধু মাইক্রোসফটের Windows 7, Windows 8 এবং এর উপরের সংস্করণ গুলোতে রয়েছে। আবার Windows 10 এর সেফমুড অপশনটি বেশ জটিলতাযুক্ত। তবে উইন্ডোজ ১০ এর নিজস্ব ডিফেন্ডার থাকায় সেফ মোড অপশনে গিয়ে ম্যালওয়্যার নির্মূলের প্রয়োজন পড়ে না।

win 10 boot option

যাইহোক আপনি প্রথমে উইন্ডোজ রিস্টার্ট দিবেন তারপর কিবোর্ডের ফাংশন ৮ কি (F8) চাপবেন তখন আপনার উইন্ডোজ রিবুট হবে। যদি আপনার সেফ মোডের অপশনগুলো না আসে তাহলে আবার রিস্টার্ট দিয়ে চেষ্টা করেন। (বিভিন্ন পিসিতে কনফিগারেশন ও উইন্ডোজের ধরন অনুযায়ী সেফ মোডে প্রবেশের প্রসেস  আলাদা হতে পারে) যদি অপশন গুলো পেয়ে যান তাহলে কম্পিউটার এর Arrow key গুলো ব্যাবহার করে সেফ মোড উইথ নেটওয়ার্কিং অপশনটি ব্যাবহার করুন। যেহেতু আমরা অনলাইন থেকে অ্যান্টি ম্যালওয়্যার টুল ব্যাবহার করবো সেহেতু নেটওয়ার্ক অপশনটি সহ সেফমোড ব্যাবহার করতে হবে।

সেফ মোডে যাওয়ার পর হয়তো আপনি খেয়াল করবেন যে আপনার পিসিটি আগের চেয়ে বেশ দ্রুত কাজ করছে। এটাও একটা লক্ষণ যে আপনার পিসিটি ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হয়েছে। আবার কিছু ক্ষেত্রে পিসি স্টার্টআপ হওয়ার সময় অতিরিক্ত ফাইল থাকার কারণেও স্লো হয়ে থাকে।

২য় ধাপ

আপনি এখন সেফ মোডে আছেন। ভাইরাস স্ক্যানার ব্যাবহার করার আগে আপনি আপনার উইন্ডোজের ডিস্ক ক্লিনআপে গিয়ে টেম্পোরারি ফাইল গুলো ডিলেট করে ফেলুন।

temporary clening

এতে আপনার পিসির ভাইরাস স্ক্যানিং করার সক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়ে দ্রুত কাজ হবে সেই সাথে ড্রাইভে কিছু ফ্রি স্পেস পেয়ে যাবেন। উইন্ডোজ ১০ এর জন্য স্টার্ট মেন্যুর search bar এ গিয়ে Disk Cleanup লিখলেই হবে কিংবা স্টার্ট মেনুতে গিয়ে টুলসে গিয়ে ডিস্ক ক্লিনআপে যেতে হবে।

৩য় ধাপ

এখন আপনি ম্যালওয়্যার স্ক্যান করতে প্রস্তুত। আপনার পিসিতে আগে থেকে যে অ্যান্টিভাইরাস ইন্সটল করা থাকলে সেটা দিয়ে আর স্ক্যান করে লাভ হবে না। কারণ আগের অ্যান্টিভাইরাস থাকা অবস্থাতেই আপনার পিসিটি ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হয়েছে সুতরাং বর্তমান অ্যান্টিভাইরাসটি দুর্বল হয়ে গেছে। তবে এটাও ঠিক যে কোন অ্যান্টিভাইরাসই লক্ষ লক্ষ প্রকারের ভাইরাস/ম্যালওয়্যার থেকে  ১০০% নির্মূলে সক্ষম নয়। তাই নতুন একটি অ্যান্টিভাইরাস বা অ্যান্টি-ম্যালওয়্যার ইন্সটল করতে হবে। আমরা জানি যে দুই ধরনের অ্যান্টিভাইরাস/অ্যান্টি-ম্যালওয়্যার রয়েছে। একটি রিয়েল টাইম স্ক্যানার আরেকটি অন ডিমান্ড স্ক্যানার। রিয়েল টাইম স্ক্যানার আপনার পিসির ব্যাকগ্রাউন্ডে চলতে থাকে এবং সেই সাথে স্ক্যানিং অব্যাহত রেখে ভাইরাস ডিটেক্ট করে আপনাকে সাথে সাথেই জানিয়ে দেয়। অন্যদিকে অন ডিমান্ড স্ক্যানারে সরাসরি অ্যাটিভাইরাস প্রোগ্রামে গিয়ে রান করার মাধ্যমে স্ক্যান সম্পন্ন করতে হয়। যদি আপনি মনে করেন যে আপনার পিসি ম্যালওয়্যার দ্বারা আক্রান্ত হয়েছে তাহলে বলবো অন ডিমান্ড স্ক্যানার ব্যাবহার করেন প্রথমে তারপর রিয়েল টাইম স্ক্যানার গোপনে গোপনে স্কান করবে সম্পূর্ণ ড্রাইভকে।

অনেক ধরনের অ্যান্টিভাইরাস/ ম্যালওয়্যার ডিফেন্ডার পাবেন আপনি অনলাইনে। এগুলোর মধ্যে BitDefender Free Edition, Kaspersky Virus Removal Tool, Malwarebytes, Microsoft’s Malicious Software Removal Tool, Avast এবং SuperAntiSpyware ইত্যাদি খুবই জনপ্রিয়।

৪র্থ ধাপ

আপনার কম্পিউটার যদি ম্যালওয়্যার দ্বারা আক্রান্ত হয় তাহলে সবচেয়ে ভালো হয় Malwarebytes দ্বারা স্ক্যান করা। এটা খুব ভালো মানের অন ডিমান্ড অ্যান্টি-ম্যালওয়্যার। Malwarebytes ওয়েবসাইটে গিয়ে আপনি ফ্রী ট্রায়ালটি ডাউনলোড করে ব্যাবহার করতে পারেন ১৪ দিনের জন্য। ডাউনলোড শেষে সমস্ত পিসিকে একবার কুইক স্ক্যান করে নিবেন। এতে প্রাপ্ত আক্রান্ত ফাইল গুলো ডিলেট করে দিবেন।

malwarebytes

এরপর আরেকটি কাজ করলেই আপনি প্রায় নিরাপদ করে ফেলবেন আপনার পিসিকে। আপনি এখন Microsoft security essentials টি ডাউনলোড করে নিবেন। এটি একটি ফ্রী এবং খুব ভালো মানের মাইক্রোসফটের ভাইরাস প্রতিরোধী রিয়েল টাইম ও অন ডিমান্ড স্ক্যানার। এটা ডাউনলোড শেষে ইন্সটল করে নিন সেফ মোডে থাকা অবস্থাতেই।

microsoft essential

এবার সেফ মোড থেকে বের হয়ে আসুন। কম্পিউটার আবার রিস্টার্ট দিয়ে সাভাবিক ভাবেই প্রবেশ করুন আপনার উইন্ডোজে। Microsoft security essentials টি দ্বারা এইবার সম্পূর্ণ পিসিটি স্ক্যান করে চেক করে নিন।

scaner

ইনশাআল্লাহ দেখবেন আপনার পিসিটি ফ্রেশ পাবেন। এইবার আবার আপনার কম্পিউটারটিকে Malwarebytes দ্বারা অন ডিমান্ট স্ক্যান করুন অনলাইন সংযোগ করে তবে এইবার ফুল স্ক্যান করুন। ফুল স্ক্যান করতে প্রায় ২০-৩০ মিনিটের মত সময় লাগতে পারে। তবে এই সময়টা নির্ভর করবে আপনার হার্ডড্রাইভে থাকা ফাইলের সংখ্যার উপর। যাইহোক সম্পূর্ণ স্ক্যান সফল ভাবে শেষে বুঝতে পারবেন আপনার কম্পিউটারটি অন্য টাইমের চেয়ে বর্তমানে অনেক স্মুথলি চলছে। আর হ্যাঁ, অভিনন্দন আপনার কম্পিউটারটি এখন ভাইরাস/ ম্যালওয়্যার মুক্ত।

এরপরেও যদি মনে করেন সমস্যা হচ্ছে তাহলে বুঝবেন হয়তো আপনার কম্পিউটারের হার্ডওয়্যারে সমস্যা। এই ক্ষেত্রে আপনি নিজে সমাধানে সক্ষম না হলে একজন এক্সপার্টকে দেখান। আমাদের কমেন্ট করেও জানিয়ে সাহায্য নিতে পারেন। লিখার মাঝে নীল চিহ্নিত অ্যান্টিভাইরাসের নাম গুলোতে ক্লিক করে পেয়ে যাবেন অ্যান্টিভাইরাস গুলোর অফিসিয়াল ওয়েবসাইট। ডাউনলোড করে নিতে পারেন সেখান থেকে।

উপরোক্ত বিষয়টি পছন্দ হলে লাইক দিন, উপকারী মনে হলে অন্যদের সাথে শেয়ার করুন।

comments

S.M. Sojib Ahmed

উপরোক্ত আর্টিকেলটি লিখেছেন | Email: smsojibahmed@gmail.com | Facebook: https://www.facebook.com/sojib.ahemed.5