পাবলিক ওয়াইফাই কি? ফ্রি ওয়াইফাই জোন ব্যবহার না করার ৫টি কারণ

পাবলিক ওয়াইফাই ব্যবহার করা কতটা নিরাপদ এমন প্রশ্ন কি কখনও জেগেছে আপনার মনে? পাবলিক ওয়াইফাই বলতে মূলত আমি সেগুলোকে বুঝাচ্ছি যেগুলো ব্যবহার করতে কোন পাসওয়ার্ড টাইপ করতে হয় না যেমন কফিশপ, মার্কেট, ফাস্ট ফুডের দোকান, ফ্রি ওয়াইফাই জোন ইত্যাদি। পাসওয়ার্ড ছাড়া ওয়াইফাই ব্যবহার করা খুবই বিপদজনক। এসব অ্যাক্সেস পয়েন্টে হ্যাকাররা আপনার জন্য ফাঁদ পেতে রাখতে পারে। আর সে ফাঁদে পা দিয়ে আপনার ইমেল, ফেসবুকের পাসওয়ার্ড, সেন্সিটিভ ভিডিও, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নাম্বার ইত্যাদি খোয়া যেতে পারে।


কেন ব্যবহার করবেন না:

এটি ব্যবহারে গোপন তথ্য চরি হয়ে যেতে পারে। প্রশ্ন আসতে পারে পাবলিক ওয়াইফাই ব্যবহার করলে কি করে আপনার গোপন তথ্যগুলো চুরি হয়ে যেতে পারে? হ্যাকাররা সাধারণত ওয়াইফাই রাউটার যেগুলো কিনা কোন ধরনের পাসওয়ার্ড দ্বারা সংরক্ষিত না সেগুলোকে নিজেদের টার্গেটে রাখে। লক্ষ করুন তো আপনার বাসার ওয়াইফাই এ পাসওয়ার্ড দেয়া আছে কি না? যদি কোন পাসওয়ার্ড দেয়া না থাকে তবে বলা যায় আপনিও পড়ে যেতে পারেন যে কোন হ্যাকার এর ফাঁদে।

পাসওয়ার্ড ছাড়া পাবলিক ওয়াইফাই ব্যবহার:

আবার ধরুন আপনি পাসওয়ার্ড প্রটেক্টেড ওয়াইফাই ই ব্যবহার করছেন। এক্ষেত্রেও আপনি হ্যাকারদের ফাঁদে পড়ে যেতে পারেন যদি আপনার রাউটারে কাস্টম ইউজার নেইম আর পাসওয়ার্ড না দেয়া থাকে। তাই বুঝতেই পারছেন রাউটারে ডিফল্ট ইউজার নেইম আর পাসওয়ার্ড ভুলেও রাখা যাবে না। কারন এ ধরণের রাউটারে এক্সেস নিতে হ্যাকারকে কিছুই করতে হয় না। আর যদি কোন হ্যাকার আপনার ওয়াইফাইয়ের সাথে যুক্ত রাউটারটিতে এক্সেস পেয়েই যায় তাহলে সে সব দেখতে পারবে। ইভেন ওয়াইফাইয়ে কি পাসওয়ার্ড দেয়া আছে সেটাও দেখা যাবে। এখন এরকম ওয়াইফাই ব্যবহার করে যদি আপনি ফাইল আদান প্রদান করেন তাহলে ম্যান ইন দ্য মিডল অ্যাটাকের মাধ্যমে আপনার সর্বোস্ব লুটে নেয়া সম্ভব। এভাবে নিজের অজান্তেই সকল তথ্য তুলে দেবেন অন্যের হাতে।

বিভিন্ন ওয়েব সাইট ব্রাউজ:

হ্যাকারদের কাছে পাবলিক ওয়াইফাই ব্যবহার করা খুবই জনপ্রিয়। কারণ আপনার খেয়ে আপনাকেই হুমকির মুখে ফেলে দেয়া যায় এ মাধ্যম ব্যবহার করে। যে সকল ওয়েব সাইটে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেই সে সকল ওয়েব সাইটে যেসকল ভিজিটর ভিজিট করে তাদের সকল তথ্য অনিরাপদ হয়ে পড়ে। তাই SSL সার্টিফাইড না হলে ফ্রি ওয়াইফাই জোনে গিয়ে ভুলেও অনিরাপদ সাইটে আপনার ব্যক্তিগত তথ্য দিবেন না। অনেক সময় ওয়েব সাইটের ওপরে থাকা https:// লেখা দেখে আপনি নিশ্চিন্ত হয়ে পারেন যে এটি নিরাপদ বা সিকিউর সাইট।


ফেক ওয়াইফাই দ্বারা হ্যাক করার চেষ্টা:

অনেক সময় ফেক হটস্পট তৈরী করা হয় বোকা বানানোর জন্য। আর সেটি দেখতে একদম রিয়েল ওয়াইফাই -গুলোর মতো হয়। যার কারণে আপনি দেখে খুব সহজে বুঝতে পারবেন না যে সেটি আসল নাকি নকল। ফেক ওয়াইফাই গুলো এমন ভাবেই সাজানো হয় যে এটি দেখতে ঠিক আপনার ঘরে থাকা ওয়াইফাই এর মত। যার কারণে আপনার কম্পিউটার বা মোবাইল বা ডিভাইস যেটিতে আপনি নেট চালাবেন সেটি কনফিউজড হয়ে পরবে। আর সে যদি ভুল ওয়াইফাই এ কানেক্ট হয়ে পরে তাহলে বলাই যায় যে আপনার জন্য একটি খারাপ সংবাদ আছে। আর সেটি হল আপনার কম্পিউটার বা মোবাইলটি হ্যাক হয়ে যেতে পারে।


যেকল ওয়েবসাইট গুলো ব্যবহার করা বিপদজনক নয়:

আপনি যেই ওয়েব সাইট গুলো ব্যবহার করেন খেয়াল করে দেখবেন সেগুলোতে SSL, TSL, https:// এমনটা থাকে কিনা। যেমন: www.google.com, www.youtube.com । যা আপনার আর আপনার ব্রাউজ করা ওয়েব সাইটের নিরাপত্তা বজায় রাখে। জনপ্রিয় সকল ওয়েব সাইটে এমন নিরাপত্তার ব্যবস্থা সাধারণত থাকেই।

এতো কিছু বলার পর হয়ত আপনি ভাববেন যে, এখন কি করা উচিত, পাবলিক ওয়াইফাই চালাবো কি না। তাহলে আমি বলব না চালানোটাই ভালো। তবুও যদি কখনও দরকার হয় তাহলে সাবধানতা অবলম্বন করুন। কারণ আপনার তথ্য আপনার কাছে মূল্যবান। সেটাকে যতটা সম্ভব নিরাপদে রাখার চেষ্টা করুন।

উপরোক্ত বিষয়টি পছন্দ হলে লাইক দিন, উপকারী মনে হলে অন্যদের সাথে শেয়ার করুন।

comments

Admin

উপরোক্ত আর্টিকেলটি লিখেছেন | Email: admin@banglacourse.com | Facebook: www.facebook.com/BanglaCourse