গ্রাফিক্স কার্ড নেই কিংবা কম গ্রাফিক্স নিয়ে সমস্যা? তাহলে ফ্রিতে দ্বিগুণ করে ফেলুন

কম্পিউটার গ্রাফিক্স কম্পিউটারের বিভিন্ন কাজের গুণগত মানকে প্রকাশ করে। গ্রাফিক্স কার্ড কি এটা না জেনে থাকলে দেখে নিন এখান থেকে। হাই রেজুলেশনের কাজ মানেই উচ্চ গ্রাফিক্সের কাজ। গ্রাফিক্স কম হলে কাজ করেও শান্তি তেমন পাওয়া যায় না। তাছাড়া বর্তমানে যে সকল সফটওয়্যার আছে যেমন ফটোশপ, ইলাস্ট্রেটর, থ্রি ডি ডিজাইন, অ্যানিমেশন মেকার, অটো ক্যাড ইত্যাদি এগুলোর জন্য চাই হাই রেজুলেশন সমৃদ্ধ গ্রাফিক্স অ্যাক্টিভিটি। এমন কি আপনি যদি বর্তমান সময়ের হাই গ্রাফিক্সের গেম কিংবা ভিডিও প্লে করতে চান তাহলেও লাগবে উচ্চ  গ্রাফিক্স। সুতরাং বুঝতেই পারছেন বর্তমান সময়ের সাথে নিজেকে আপডেট কাজে অ্যাডভান্স রাখতে উচ্চ গ্রাফিক্স বেশ জরুরী। তবে কষ্টের বিষয় হলো এই গ্রাফিক্স আপনি চাইলেই হুটহাট করে বাড়িয়ে নিতে পারেন না কারণ মূল্য ও হার্ডওয়্যার সাপোর্ট।

আরো পড়ুন: CPU কি | সিপিইউ এর প্রসেসিং স্পিড ফ্রি’তে যেভাবে দ্বিগুণ করবেন

যাইহোক, আজ আমি আপনাদের এমন একটা কৌশল জানাবো যার মাধ্যমে খুব সহজেই বিনা পয়সায় পিসির গ্রাফিক্স বাড়িয়ে নিতে পারেন। আসলে এই কৌশল আপনার পিসির অব্যবহৃত গ্রাফিক্স শেকশন বা রিজার্ভ গ্রাফিক্স শেকশন কে কাজে লাগাবে যেগুলো পিসি সব সময় সংরক্ষণ করে রাখে। তাই রিজার্ভ অংশের গ্রাফিক্স ব্যবহার করলে সাভাবিক ভাবেই আপনার পিসির গ্রাফিক্স কোয়ালিটি বৃদ্ধি পাবে। আর হ্যাঁ, এই বৃদ্ধি করা গ্রাফিক্স ব্যবহার করলে আপনার মোটেও পিসির কোন ক্ষতি হবে না যেহেতু আপনি রিজার্ভ অংশ ব্যবহার করছেন। তাহলে চলুন দেখে নিই কিভাবে গ্রাফিক্স বাড়াবেন একদম ফ্রিতে।

পারফর্মেন্স মনিটর

parformance monitor

গ্রাফিক্স বৃদ্ধি করতে আমাদের প্রথমে যেতে হবে পারফর্মেন্স মনিটরে। এই জন্য স্টার্ট মেনুতে ক্লিক করে অল প্রোগ্রামে যেতে হবে। তারপর উইন্ডোজ অ্যাডমিনিস্ট্রেটর টুলস অংশে ক্লিক করে পারফর্মেন্স মনিটরে রাইট ক্লিক করে মোর এ গিয়ে run as administrator করুন।

পারফর্মেন্স মনিটর সেটিংস

monitor settings

পারফর্মেন্স মনিটরে প্রবেশ করার পর এখন আপনাকে পারফর্মেন্স মনিটর সেট করে নিতে হবে। data collector sets এ ক্লিক করে ইউজার ডিফাইনে ক্লিক করতে হবে। এখন দেখতে পাবেন ইউজার ডিফাইনের মেন্যুটি ব্ল্যাংক অবস্থায় আছে। ব্ল্যাংক অংশে মাউসের রাইট বাটন ক্লিক করে new এবং data collector sets করে সেটিংস প্যানেলে প্রবেশ করতে হবে। এই অংশে create manually advance সিলেক্ট করতে হবে। এখন উপরের শুন্য বক্সে একটা নাম সেট করে দিতে হবে। যেহেতু, গ্রাফিক্স নিয়ে কাজ করবো তাই এই অংশে আমি graphics নাম দিয়েছি। নেক্সট করে পরবর্তী creat data logs মেন্যুতে গিয়ে সিলেক্ট করে দিন performance counter এবং system configuration information এই দুইটি। আবার নেক্সট করে পরের মেন্যূতে যান।

গ্রাফিক্স সেটিংস

graphics settings

এই মেন্যুতে গ্রাফিক্সের মান ও ধরণ সেট করে নিতে হয়। মেন্যুটির ডান পাশে থাকা অ্যাড অংশে ক্লিক করে ভেতরে প্রবেশ করতে হবে। ভেতরে প্রবেশের পর দেখতে পাবেন বাম পাশের বক্সে লিখা আছে remotefx graphics এতে ক্লিক করে ভেতরের অংশ গুলো ওপেন করুন। এখান থেকে frame quality সিলেক্ট করে নিয়ে অ্যাড করে হবে। ফ্রেম কোয়ালিটি গ্রাফিক্সের প্রোপারটিজ পরিবর্তন করবে। আপনাকে graphics compression ratio অ্যাড করতে হবে এর পর। এটা আপনার গ্রাফিক্সের ভিজুয়াল কোয়ালিটি বৃদ্ধি করবে। আপনাকে আরো একটি অংশ সিলেক্ট করতে হবে যা আপনার গ্রাফিক্সের গতি ও স্পষ্টতা নিয়ে আসবে যাকে আমরা fps ( frame per second ) বলি। সুতরাং আপনাকে output frames/ second সিলেক্ট করে অ্যাড করে দিতে হবে। এই ৩টি অংশ সিলেক্ট করা হয়ে গেলে ওকে করে বের হয়ে আসুন। এখন মেন্যুর নিচে দেখতে পাবেন sample interval লিখা আছে। এখানে গিয়ে ১৪৪ সংখ্যাটি বসিয়ে দিন। এখন নেক্সট নেক্সট করে ফিনিশ করে দিন। ফিনিশ করার আগে create the data collector set অংশে open properties for this data collector set অংশ সিলেক্ট করে দিন। এখন ফিনিশ করে দিন।

গ্রাফিক্স প্রোপার্টিজ সেট

propartise settings

উপরের কাজ শেষে ফিনিশ করে দিলেই এই প্রোপার্টিজ মেন্যুটি ওপেন হবে। এখানে জেনারেল সেটিংসে কী-ওয়ার্ড সেট করতে হবে। আমি এখানে ৩টি কী-ওয়ার্ড অ্যাড করেছি। সিপিউ কে বুঝাতে চাচ্ছি যে আমি কি কাজের জন্য গ্রাফিক্স প্রোপার্টিজ চেঞ্জ করতে চাচ্ছি এই জন্য লিখবো GPU , তারপর ২য় কী-ওয়ার্ড হিসেবে সেট করবো বর্তমান গ্রাফিক্স কার্ডের মডেলের নাম্বার। আমারটা nvidia GTX 980 তাই আমি এটা সেট করলাম। এরপর ৩য় ও শেষ কী-ওয়ার্ড সেট করবো আর তা হলো কি পরিমাণ গ্রাফিক্স বাড়াতে চাই তার গাণিতক আমি এখানে ডাবল গ্রাফিক্স বানানোর কথা লিখছি তাই আমি ২ গুণিতক সেট করবো এবং অ্যাপ্লাই করে দিবো। এখন আমরা stop condition অংশে ক্লিক করবো। এখানে overall duration সেট করবেন গ্রাফিক্সের কাজের গতির জন্য। আপনার পিসি যদি হাই কনফিগারের হয় তাহলে ৫ সেট করতে পারেন তবে আমি সাজেস্ট করবো ৩ সেট করতে। সেট করা হয়ে গেলে ওকে করে দিন।

চেকিং গ্রাফিক্স ডাটা কালেক্টর প্রোপার্টিজ

cheaking

এখন ইউজার ডিফাইনের গ্রাফিক্স অংশে ক্লিক করবো। এখানে আপনি ২টি ডাটা কালেক্টর লিস্ট পাবেন যেগুলোর একটি পারফর্মেন্স কাউন্টার এবং অপরটি কনফিগারেশন। পারফর্মেন্স কাউন্টারের ডাটা কালেক্টরে রাইট ক্লিক করে প্রোপার্টিজে প্রবেশ করুন। এখানে চেক করে দেখুন লগ ফর্মেট বাইনারিতে আছি কি না। না থাকলে বাইনারি করে দিন। sample interval এ 144 এবং maximum sample এ 144*2 (যেহেতু গ্রাফিক্স দিগুণ করবো) = 288 করে দিবো। ওকে ক্লিক করে বের হয়ে আসতে হবে এখন।

এখন পিসিটি রিস্টার্ট দিন এতে নতুন করে সেট করা গ্রাফিক্সটি অটোম্যাটিক কনফিগারেশন হয়ে যাবে। একটা গেম চালু করে গ্রাফিক্স সেটিংস এ গিয়ে দেখলেই বুঝবেন আগের চেয়ে বর্তমানে গ্রাফিক্স রেজুলেশনের মান বেশি দেখাচ্ছে। এমনকি গেম খেলার সময় বুঝবেন গেমটি আরো রিয়েল মনে হচ্ছে।

এই ছিলো আজকের পোস্টে আপনাদের সাথে একটা অসাধারণ তথ্য শেয়ার। পাঠক কেমন লাগলো আজকের এই পোস্ট তা জানিয়ে কমেন্ট করুন। কোন প্রশ্ন বা তথ্য জানার থাকলে কিংবা সমস্যা মনে হলে অবশ্যই জানাবেন।

উপরোক্ত বিষয়টি পছন্দ হলে লাইক দিন, উপকারী মনে হলে অন্যদের সাথে শেয়ার করুন।

comments

S.M. Sojib Ahmed

উপরোক্ত আর্টিকেলটি লিখেছেন | Email: smsojibahmed@gmail.com | Facebook: https://www.facebook.com/sojib.ahemed.5