উইন্ডোজ ৭ কম্পিউটার স্লো হয়ে গেছে? পিসি ফাস্ট করার উপায় জেনে নিন

উইন্ডোজ এক্সপি অপারেটিং সিস্টেমের পর মাইক্রোসপ্ট কর্পোরেশনের সবচেয়ে বহুল জনপ্রিয় অপারেটিং সিস্টেম ছিল উইন্ডোজ-৭ যত দিন পর্যন্ত উইন্ডোজ-১০ রিলিজ হয় নি। উইন্ডোজ-১০ রিলিজ হওয়ার পরে যে এর চাহিদা খুব কমে গিয়েছে তা নয়। কারণ এমন অনেক পুরানো পিসি রয়েছে যেগুলো উইন্ডোজ-১০ এর জন্য খুব একটা উপযোগী নয়। তাই সেই সকল ব্যবহারকারীদের এখনো উইন্ডোজ-৭ ব্যবহার করতে হয়। বলে রাখা ভালো যে উইন্ডোজ-৭ এমন একটি অপারেটিং সিস্টেম যা সেই সময় এবং এই সময়ের সকল পিসির জন্য খুব ভালো ইউজার ফ্রেন্ডলি অপারেটিং সিস্টেম এমনকি আপগ্রেড ভার্সন উইন্ডোজ-৮/ ৮.১ অপারেটিং সিস্টেমও উইন্ডোজ-৭ এর চেয়ে জনপ্রিয় হয়ে উঠতে পারে নি। উইন্ডোজ-৭ সত্যি একটি মনে রাখার মত অপারেটিং সিস্টেম ফলে এখনো অনেকেই রয়েছেন যারা উইন্ডোজ-১০ এর চেয়ে উইন্ডোজ-৭ ব্যবহারে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। মন খারাপের বিষয় হলো উইন্ডোজ-৭, ৬মাস বা ১ বছর ব্যবহারের পর কিংবা খুব ভারী বড় সফটওয়্যার/ অনলাইন নিয়মিত ব্যবহার করলে স্লো হয়ে যায়। সেই ক্ষেত্রে আবার নতুন করে উইন্ডোজ দিতে হয়। কিন্তু অনেক সময় কাজের এতো চাপ থাকে যে উইন্ডোজ বারবার সেটআপ দেয়াটা সম্ভব হয়ে উঠে না। এই ক্ষেত্রে বিশেষ কিছু কৌশল অনুসরণ করা যেতে পারে। পাঠক, আজ আমি আপনাদের উইন্ডোজ-৭ কে সুপার ফাস্ট কাজ করার কিছু কৌশল জানাব।

আরো পড়ুন: কম্পিউটার ফাস্ট করার উপায় খুঁজছেন? তাহলে এখনই পিসিকে দিন রকেট গতি

রান ডিস্ক ক্লিন আপ

disk cleanup

কম্পিউটারে সারাদিনের কাজের জন্য প্রচুর জাঙ্ক ফাইল জমা হয় হার্ড ড্রাইভে। এগুলো আপনার পিসির স্পিড কমিয়ে দিতে পারে। তাই এগুলোকে আপনি ক্লিন করে পেতে পারেন প্রকৃত স্পিড। প্রথমে লোকাল ডিস্ক C ড্রাইভে রাইট ক্লিক করে properties এ প্রবেশ করে general সেটিংসে গিয়ে দেখতে পাবেন disk cleanup লিখা আছে। সেখানে ক্লিক করে আপনি ডিস্ক ক্লিনাপ করতে পারেন। ডিস্ক ক্লিনাপে ক্লিক করার পর কিছু সময় লাগবে ডিস্ক চেক করতে তারপর files to delete বক্সে সব গুলোতে টিক চিহ্ন দিয়ে দিন। তারপর OKতে ক্লিক করে ক্লিন করে ফেলুন।

ডিস্ক ডিফ্রাগমেন্ট

disk defragment

আপনার উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেমকে ফাস্ট করে তুলতে সপ্তাহে অন্তত একবার ডিস্ক ডিফ্রাগমেন্ট করা উচিৎ। উইন্ডোজ-৭ এ খুব সহজেই এটা করা সম্ভব। সারদিনের কাজের ফাইল বা ডাটা গুলোকে সাজিয়ে গুছিয়ে রেখে কম্পিউটারকে কাজের জন্য উপযোগী করে তোলাই মূলত ডিফ্রাগমেন্টের কাজ। local disk(C) তে মাউসে রাইট ক্লিক করে properties এ গিয়ে Tools এ প্রবেশ করে defragment করুন। আপনি চাইলেই কনফিগার শিডিউলে গিয়ে সময় সেট করে রাখতে পারেন কত দিন পর পর ডিফ্রাগমেন্ট করবেন।

ডিলেট টেম্পোরারি ফাইল অ্যান্ড প্রিফেচ

delete temp

প্রতিদিন পিসিতে যা যা করেন তার অনেক ট্যাম্পরারি ফাইল তৈরি হয় যা সিস্টেমের কার্যকারিতা লোপ করে দেয় আস্তে আস্তে। তাই দুই তিন দিন পর পর কিংবা অনেক গুলো কাজের পর পিসি অফ করার আগে টেম্পোরারি ফাইল / প্রিফেচ ফাইল ডিলেট করা প্রয়োজন। এই জন্য পিসিতে কিবোর্ড থেকে কমান্ড দিন windows+r , রান ফিচার টি ওপেন হবে।। এখানে বক্সে গিয়ে লিখুন recent তারপর ওকে করে ঢুকে সব ডিলিট করে দিন। তারপর temp, %temp% , prefetch এগুলো থেকেও ফাইল গুলো ডিলেট করে দিন। আর এই সব কাজগুলো রান রান কমান্ড ব্যবহার করে করা অনেক সময় সাপেক্ষ্য ব্যাপার। তাই সফটওয়্যার এর মাধ্যমে এক ক্লিকে করতে চাইলে ডাউনলোড করুন ট্যাম্পরারি ডিলেট করার সফটওয়্যার।

সুনাম ধন্য ভালো মানের অ্যান্টিভাইরাস ব্যবহার করুন

 

কম্পিউটারে একটি ভালো সুনাম ধন্য ভালো মানের অ্যান্টিভাইরাস ব্যবহার করুন। অনলাইনে বর্তমানে প্রচুর ভালো সুনাম ধন্য কম্পানির অ্যান্টিভাইরাস পাওয়া যায়। ফ্রিওয়্যার, ট্রায়াল কিংবা প্রিমিয়ার ভার্সন কিংবা মাইক্রোসফটের সিকিউরিটি এসেন্সিয়াল ব্যবহার করতে পারেন। সব অ্যান্টিভাইরাসেরই সেম ক্যাটাগরির ব্যবহার বিধি তাই ব্যবহারে কোন সমস্যা হবে না। আপনি ম্যানুয়ালি স্ক্যান করে প্রটেকশন বাড়িয়ে নিতে পারেন। অনেক সময় ভাইরাস বা অন্যান্য ভাইরাস জনিত প্রোগ্রামের কারণে কম্পিউটারে অপারেটিং সিস্টেম স্লো হয়ে যায়। তাই ম্যানুয়ালি স্ক্যান এবং ভাইরাস ক্লিনিং করার পরেও অ্যান্টিভাইরাসে সেট করে দিন সপ্তাহের কোন কোন দিন এটা নিজে থেকেই ব্যাকগ্রাউন্ড স্ক্যান চালাবে। এটা খুব মানের একটা প্রক্রিয়া।

স্টার্টআপ থেকে অপ্রয়োজনীয় প্রোগ্রাম সরিয়ে ফেলুন

startup menu

আপনার পিসির স্টার্টআপ সময় খুব বেশি নিচ্ছে? কিংবা যেকোনো প্রোগ্রাম রান করতে গেলে অনেক সময় লাগাচ্ছে শুরুতে? তাহলে সমস্যাটা স্টার্টআপ মেন্যুতে। windows + r চেপে রান কমান্ড চালু করুন। তারপর বক্সে লিখুন msconfig ওকে করে ভিতরে প্রবেশ করুন তারপর startup অপশনে গিয়ে অপ্রয়োজনীয় প্রোগ্রাম গুলো ডিজেবল করে দিন। সাউন্ড সিস্টেম, গ্রাফিক্স, নেট, অ্যান্টিভাইরাস বাদে সব গুলো ডিজেবল করে দিন। তারপর একবার রিস্টার্ট দিয়ে নিবেন।

আনইন্সটল করুন অপ্রয়োজনীয় সফটওয়্যার

uninstall programe

এমন অনেক সফটওয়্যার রয়েছে যেগুলো শুধু শুধু ইন্সটল হয়ে আছে পিসিতে। ফলে পিসির RAM ব্যবহার করে যাচ্ছে অজথায়। অপারেটিং সিস্টেম এর জন্য স্লো হয়ে উঠে। ব্যাকগ্রাউন্ডে চলে এমন অপ্রয়োজনীয় সফটওয়্যার গুলো আগে আনইন্সটল করুন। গেম গুলোর প্রয়োজন না থাকলে আনইন্সটল করুন। আনইন্সটল করতে program and feature অপশনে গিয়ে অপ্রয়োজনীয় সফটওয়্যার সিলেক্ট করে আনইন্সটল করে ফেলুন।

প্রিয় পাঠক এই কয়টি কৌশল আপনি অনুসরণ করেই আপনার পিসির উইন্ডোজ-৭ যথেষ্ট ফাস্ট করে তুলতে পারেন। এছাড়াও বেশ কিছু থার্ড পার্টি সফটওয়্যার ব্যবহার করেও ফাস্ট করে তুলতে পারেন। উপরোক্ত কৌশলে যদি উইন্ডোজ-৭ ফাস্ট না হয় তাহলে নতুন করে উইন্ডোজ দেয়াটাই ভালো। এই ক্ষেত্রে আপনার ডিভাইসের কনফিগারেশন অবশ্যই আরেকবার চেক করে নিবেন যে তা কোন অপারেটিং সিস্টেমের জন্য বেস্ট। আজকের পোস্ট কেমন লাগলো বা আপনাদের কোন মতামত জানানোর থাকলে কমেন্টে জানাবেন।

উপরোক্ত বিষয়টি পছন্দ হলে লাইক দিন, উপকারী মনে হলে অন্যদের সাথে শেয়ার করুন।

comments

S.M. Sojib Ahmed

উপরোক্ত আর্টিকেলটি লিখেছেন | Email: smsojibahmed@gmail.com | Facebook: https://www.facebook.com/sojib.ahemed.5