সোস্যাল নেটওয়ার্ক কি? কেন এর সাথে কেন জড়িত থাকা উচিত?

সোস্যাল নেটওয়ার্ক কি? কেন এর সাথে কেন জড়িত থাকা উচিত মূলত এ বিষয়েই আমি আজ বিস্তর আলোচনা করব। আমাদের চলাফেরার জন্য আমরা অনেক কিছু ব্যবহার করে থাকি প্রয়োজনের তাগিদে। তার মধ্যে সোস্যাল নেটওয়ার্ক একটি। যেটা ছাড়া বর্তমান জেনারেশনটাই ভাবা যায় না। আগামী ভবিষ্যতে এর ব্যবহার কমবে না বরং বারতেই থাকবে। কথা হলো সোস্যাল নেটওয়ার্ক মূলত জিনিসটা কি? সোস্যাল নেটওয়ার্ক এর সাথে কেন জড়িত থাকা উচিত? সোস্যাল নেটওয়ার্ক হলো একটি যোগাযোগ প্রথা। যেটা সারাবিশ্বে জুরে গিয়েছে। এটি ছাড়া কোনোকিছু ভাবাই অসম্ভব হয়ে উঠেছে।


সোস্যাল নেটওয়ার্ক এর ভিতরে রয়েছে আরো কিছু আলাদা মাধ্যম। যেগুলো দ্বারা আলাদা কাজ সম্পাদন করা হয়। যেমন-
১. ফেসবুক
২. গুগল +
৩. টুইটার
৪. ইন্সটাগ্রাম
৫. স্কাইপি
৬. ইউটিউব

৭. টেলিগ্রাম
৮. ফ্লিকার ইত্যাদি।

আমরা জানতে পারলাম যে সোস্যাল নেটওয়ার্ক কি এবং কোনগুলো। এখন আমরা মূল কথায় ফিরে আসি সেটা হচ্ছে আমাদের কেন সোস্যাল নেটওয়ার্ক এর সাথে কেন জড়িত থাকা উচিত-

  • সোস্যাল নেটওয়ার্ক আমাদের সাথে আঠার মতো লেগে আছে। এই নেটওয়ার্ক আমাদের সব সময় কাজে লাগছে। কোনো না কোনো কাজে লেগেই যায় সারাদিনে একবার না একবার। এর মাধ্যমে আমরা বিভিন্ন জায়গার খবরা খবর নিতে পারছি। কে কোথায় কেমন আছে যানতে পারছি। সেটা পৃথিবীর যেকোনো প্রান্ত হোক না কেন। বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বা অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন করতে পারছি। ঘরে বসেই সেটি করা সম্ভব হচ্ছে শুধুমাত্র ফেসবুক এর মাধ্যমে। আমরা দুরদুরান্তের খবর কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে পাই। যেমন: টুইটার।  আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এই সোস্যাল নেটওয়ার্ক। এটি জন্ম থেকে শুরু করে মৃত্যু পর্যন্ত জড়িত।

  • আমাদের সময় যাচ্ছে সোস্যাল নেটওয়ার্ক এর মাধ্যমে। প্রশ্ন আসে সেটা কিভাবে? যেভাবে সেটা হচ্ছে আমরা কারো সাথে কম খরচে নেটওয়ার্ক এর মাধ্যমে কথা বলতে পারি ফেসবুকের মাধ্যমে, ইউটিউব এর মাধ্যমে প্রয়োজনীয় কিছু দেখতে পারি।পড়াশুনার জন্য আমরা ইউটিউব ব্যবহার করতে পারি। কোনো একটা জায়গায় বুঝতে অসুবিধা হচ্ছে ইউটিউব এ সার্চ করলেই পাবে অনেক গুলো ভিডিও সেখান থেকে দেখে নিতে পারছি। গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় পাঠাতে পারছি। পড়াশুনা ছাড়াও অন্যান্য যে কোনো সমস্যা বা শিখার জন্য হোক বা জ্ঞান অর্জনের জন্য আমরা সাহায্য নিতে পারছি।

সোস্যাল নেটওয়ার্ক এর সাথে জড়িত থাকলে লাভবান:


সোস্যাল নেটওয়ার্ক এর সাথে জড়িত থাকা অতি প্রয়োজনীয়। তাহলে এই বর্তমান সময়ের সাথে তালমিলিয়ে চলা সম্ভব হবে। সময়টা আপডেট এর সাথে সাথে নিজেকেউ আপডেট করতে পারা। প্রচুর দিক থেকে জ্ঞান অর্জন করা সম্ভব। নানা দিক শিখার সুযোগ। সময় বাচানো সম্ভব। সমস্যায় পড়লে এর মাধ্যমেই সমাধান সম্ভব। চলাফেরাই স্মার্টনেশ আনা সম্ভব। পোশাক পরিচ্ছেদে স্মার্টনেশ আনা সম্ভব। ঘরে বসেই সবকিছু করতে সক্ষম। যেমন- দেশ-বিদেশের খবর, দেশ-বিদেশের মানুষের সাথে যোগাযোগ করা। মূল কথা হচ্ছে ঘরে বসেই পুরো যগৎটাকে হাতের মুঠোও আনা সম্ভব। “

আমার ব্যক্তিগত লাইফের কিছু কথা শেয়ার করি, প্রথম যখন আমি ফেসবুক চালানো শুরু করি তখন ২০১৩ সাল মানে এইতো কিছু দিন আগের কথা। প্রথমে শুধু মেয়ে বন্ধুদের সাথে চ্যাটই করতাম। এরপর স্টাটাস আপডেট করা শুরু করলাম। শুরুতে অনেক বানান ভূল হত। এজন্য অনেকেই অনেক নেতিবাচক মন্তব্য করত। তারপর গুগল করে বাংলা বানানরীতি মোটামুটি শিখে নিলাম। এভাবে ফেসবুক থেকে একসময় চলে গেলাম ব্লগে। একটি লেখা দুইটি লেখা এই ব্লগ সেই ব্লগ করতে করতে মনের অজান্তেই হয়ে গেলাম ব্লগার। বাংলা ব্লগ থেকে চললাম ইংরেজি ব্লগের দিকে। কারণ বাংলা ব্লগে রিসোর্স খুবই কম ছিল তখন তাই ব্লগ লিখার নানান আইডিয়া নেয়ার জন্য ইংরেজি ব্লগের দারস্থ হতে হত। প্রথম দিকে ইংরেজি লেখা বা ন্যাটিভ স্পিকারদের ভিডিও ব্লগের কথাবার্তা তেমন বুঝতাম না। এরপর প্রয়োজনের তাগিদে ইউটিউব থেকে করে নিলাম কিছু ইংরেজি শেখার কোর্স।

আমার লাইফে দুইটা সরকারী কোর্স করেছি প্রযুক্তি রিলেটেড। কোর্স দুইটাই ফ্রি ছিল। একটা ছিল গ্রাফিক ডিজাইন আর অন্যটি ছিল ওয়েব ডিজাইন। তবে কথা হল এই দুইটা কোর্সের খবরই দিয়েছে ফেসবুক। আবার আমার লাইফের প্রথম যে জব অফার পেয়েছি সেটাও এই ফেসবুকেই। তাহলে যদি হিসেব কষা যায় তবে দেখতে পাবেন ফেসবুক আমাকে বাংলা বানান শিখিয়েছে, ইংরেজি শিখিয়েছে, ব্লগার বানিয়েছে, দুইটা এক্সপেনসিভ কোর্স ফ্রিতে দিয়েছে এবং এমনকি জব  পর্যন্ত দিয়েছে। আমি ইন্টারনেট সংশ্লিষ্ট যত বিষয়ে জানি তার শুরুটা আসলে হয়েছে এই ফেসবুক থেকেই।” – মোঃ আব্দুল কাওসার।

সোস্যাল নেটওয়ার্ক এর সাথে জড়িত না থাকলে লোকশান:


সোস্যাল নেটওয়ার্ক এর সাথে জড়িত না থাকা অনেক বড় একটা ভুল। তার কারণ হচ্ছে সময়ের সাথে তালমিলিয়ে চলা সম্ভব হবে না। সময়ের সাথে সাথে নিজেকে আপডেট করা সম্ভব হবে না। অনেক দিক থেকে জ্ঞান হারা হয়ে যাওয়া। সময় অপচয় করা। সমস্যার সমাধান সহজে করতে না পারিা। নিজের ভেতেরে স্মার্টনেশ আনা সম্ভব না। দেশ-বিদেশের কারো সাথে সহজে যোগাযোগ করা সম্ভব হবে না। এর সাথে জড়িত না থাকলে সব থেকে বড় ব্যাপার হচ্ছে এই সময়ের মানুষের সাথে চলাফেরাই ঠাই পাওয়া সম্ভব না।

 

অতএব, আমার মতে সোস্যাল নেটওয়ার্ক এর সাথে জড়িত থাকা আবশ্যক। বর্তমান যুগে এর ব্যবহার বেড়েই চলেছে এবং বাড়বেই। সেইজন্য জাড়া এর থেকে বিরত আছেন তারা অবশ্যই ব্যবহার করবেন।

উপরোক্ত বিষয়টি পছন্দ হলে লাইক দিন, উপকারী মনে হলে অন্যদের সাথে শেয়ার করুন।

comments

Admin

উপরোক্ত আর্টিকেলটি লিখেছেন | Email: admin@banglacourse.com | Facebook: www.facebook.com/BanglaCourse